Biplobi Barta

Wednesday, December 13, 2017

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানছে না বিশ্ব-পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা ওআইসির





জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানছে না বিশ্ব। জাতিসংঘে তোপের মুখে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক জোট ইইউও স্বীকৃতি না দেওয়ার কথা আগেই জানিয়েছে। গতকাল বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেছে ওআইসি। মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ তাদের এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে সমর্থণ করার আহবান জানিয়েছেন। দেশগুলোর মধ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে তুরস্ক। কূটনৈতিক দিক থেকে প্রত্যাখানের শিকার হচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তার মিত্র দেশ ইসরাইল। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদ এবং সহিংসতাও অব্যাহত রয়েছে।

ফিলিস্তিনের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেম

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখান করেছে মুসলিম দেশগুলোর বড় সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। গতকাল বুধবার বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনের পর ওআইসি এক বিবৃতিতে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করার ঘোষণা দেয়। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিশ্বকে অনুসরণ করার আহবান জানায় সংস্থাটি। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে বিপজ্জনকউল্লেখ করে ওআইসি পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলি শাসনের অবসান ঘটাতে জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানায়। ওআইসি জানায়, তারা দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধানে বিশ্বাসী। এর আগে গতকাল ওআইসি মহাসচিব ইউসেফ আল হুথাইমিন মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে মুসলিম বিশ্বকে আহবান জানান। হুথাইমিন বলেন, ওআইসি আমেরিকার সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেছে এবং এর নিন্দা জানিয়েছে। এটা একদিকে আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন এবং অন্যদিকে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিশ্বের মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে এই অঞ্চল তথা পুরো বিশ্বে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন হুথাইমিন। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই স্বীকৃতির মাধ্যমে ফিলিস্তিন-ইসরাইল শান্তি প্রক্রিয়ায় নিজেদের অযোগ্য এবং পক্ষপাতদুষ্টহিসেবে প্রমাণ করেছে। শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো ভূমিকা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, জেরুজালেম সবসময়ই ফিলিস্তিনের রাজধানী ছিল এবং থাকবে।
এর আগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে না বলে জানায়। গত সোমবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে এই কথা জানান ইইউর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেদেরিকা মঘারিনি। যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইউরোপও জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু আশা প্রকাশ করেছিলেন। মঘারিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে বলেন, এ বিষয়ে ইইউর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং এক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক ঐকমত্যকেইঅনুসরণ করবে। তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধান হচ্ছে দুই রাষ্ট্র ভিত্তিক সমাধান যার দুটিরই রাজধানী হবে জেরুজালেম। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি অধিবেশনেও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে তোপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। সদস্য দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানায়।
এদিকে সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আগামী বছরে তার সরকারের প্রাধান্যের তালিকায় কী থাকবে সেই বিষয়ে রূপরেখা ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী বছরে তার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী করা। ইরানের প্রভাবশালী ফোর্স রেভ্যুলেশন গার্ডের কমান্ডার (বিদেশে অভিযান সংক্রান্ত) কাসেম সোলেইমানি বলেন, ফিলিস্তিনে ইসলামি অভ্যুত্থানে সমর্থন দিতে প্রস্তত তারা। ইরানের পার্লামেন্ট মুসলিম বিশ্বকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাস করার আহবান জানিয়েছে। সোমবার তুরস্কে সাময়িক সময়ের জন্য অবস্থান করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে হামাস এবং ফাতাহকে ঐকবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
কেবল ওআইসি এবং ইইউ-ই নয়। ২২টি আরব দেশের সংগঠন আরবলীগসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ রাশিয়া এবং চীনও যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। সমর্থণ দেয়নি ভারতও। গতকাল ওআইসির বিশেষ সম্মেলনে যোগ দেন সমাজতান্ত্রিক দেশ ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান এবং মিসরের খ্রিস্টানরাও মার্কিন সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
 
কঠোর অবস্থানে তুরস্ক

ওআইসির বর্তমান সভাপতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি সংস্থাটির ষষ্ঠ বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনের ডাক দেন। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ৫৭ দেশের সমন্বয়ে গঠিত সংস্থাটির সম্মেলনে যোগ দেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদও। সম্মেলনে এরদোয়ান ইসরাইলকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রহিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সম্পদ্রায়কে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েছে। ইসরাইল ছাড়া এই সিদ্ধান্তকে বিশ্বের কেউ সমর্থণ করে না উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান বলেন, জেরুজালেমকে সব মুসলিম দেশ কর্তৃক ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি বলেন, জেরুজালেমের রাস্তা দিয়ে সামান্য সময়ের জন্য হেঁটেছেন এমন ব্যক্তিও ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত মানবেন না। তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একই সুরে কথা বলার আহবান জানান। এর আগে মঙ্গলবার তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত ক্যাভুসোগলু মার্কিন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আরব দেশগুলো কড়া প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তাবেদারি করছে।

বাড়ছে সহিংসতা

এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকাসহ ইইউভুক্ত দেশগুলোতেও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে সহিংসতা বাড়ছে। বিভিন্ন দেশে গতকালও বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত পশ্চিম তীর এবং গাজায় ১ হাজার ৭৯৫ জনকে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রেড ক্রিসেন্ট।
মঙ্গলবার জার্মানির বার্লিনের প্রধান ট্রেন স্টেশনে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়। সেখানে ইসরাইলি পতাকা পোড়ানো হয়। পরে পুলিশের বাধায় তার সমাবেশ করতে পারেননি। এর আগে শুক্রবার বার্লিনের মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ হয়। লেবাননের মার্কিন দূতাবাসের সামনেও বড় ধরনের বিক্ষোভ করেন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতাকারীরা। জর্ডানে বিক্ষোভকারীরা মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। ঢাকায় গতকাল মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করেছে হেফাজতে ইসলাম।
ইসরাইল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে মনে করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনিরা তাদের ভবিষ্যত্ রাষ্ট্রের রাজধানী বলে মনে করে যা ইসরাইল ১৯৬৭ সালে দখল করে নেয়। জেরুজালেমের ওপর ইসরাইলের দাবি কখনোই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। ইসরাইলে সব দূতাবাসগুলোই অবস্থিত তেল আবিবে। জেরুজালেমে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও ইসলাম- এই তিন ধর্মেরই পবিত্র স্থান আছে। সূত্র : বিবিসি ও আল জাজিরা

Tuesday, December 12, 2017

বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার ও চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও বাম মোর্চার সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ ।

বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার ও চাল, পেঁয়াজ, মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আজ সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এছাড়া দেশের প্রতিটি জেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হয়।
ফদিরপুরে পুলিশি বাধার কারণে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে স্মারকলিপি পেশ করা সম্ভব হয়নি। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সচিবালয় অভুমুখী বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান, সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমÐলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের হামিদুল হক। সভা পরিচালনা করেন বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ।
বক্তব্যে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন যতক্ষণ পর্যন্ত বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করা না হবে ততক্ষণ লড়াই চলবে। বিদ্যুত কোম্পানীগুলা কর্তৃক নভেম্বর মাসের বিদ্যুত বিলের সাথে বর্ধিত বিল সংযুক্তিতে তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে বর্ধিত দাম কার্যকর করা হলেও কোম্পানীগুলো প্রতারণাপূর্ণভাবে নভেম্বর থেকেই বিদ্যুতের বর্ধিত দাম জনগণের উপর চাপিয়ে দিয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দশ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহের স্লোগান দিয়ে এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। দ্বিতীয় দফায় বিনা প্রার্থী-বিনা ভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। তারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এখন মোটা চালের কেজি ৬০/৭০ টাকা দরে বাজারে বিক্রি হতে দিয়ে দেশের আমজনতাকে ভাতে মারার ষড়যন্ত্র করছে।
এ সরকার বাজার সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজশে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা তাদের লুটে নিতে সহযোগিতা করছে আর কমিশন হিসেবে নিজেদের নির্বাচনী তহবিল গড়ে তুলছে।
সরকারের যোগসাজশ ও নিস্পৃহতার বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তুলতে নেতৃবৃন্দ জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব-কদমফোয়ারা-পল্টন মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের পাশের রাস্তা দিয়ে সচিবালয় অভিমুখে পৌঁছলে পুলিশ সাঁজোয়া গাড়ি, জলকামান ও ব্যারিকেড দিয়ে বাধা প্রদান করে। সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চার কর্মীরা পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সেখানে অবস্থান নেয়। সচিবালয়ের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাসদ (মার্কসবাদীর) জহিরুল ইসলাম ও গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক বাচ্চু ভূঁইয়া। এখানে সারাদেশে কর্মসূচি পালনে পুলিশি বাধার তীব্র নিন্দা জানানো হয়।
সমাবেশ থেকে আগামী ২৭ ডিসেম্বর, বুধবার ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানসমূহে পরিচালক ও ব্যবসায়ীদের লুটপাটের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও শাখা কার্যালয়গুলোর সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেন ।

Thursday, December 7, 2017

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ প্রতিহত করুন,মার্কিনবিরোধী বিক্ষোভ সমাবেশ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন

মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক জেরুজালেম নগরীকে একতরফাভাবে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের প্রতিবাদে সিপিবি-বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা আহুত আজকের বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য দিতে গিয়ে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এই ডাক দেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা মানস নন্দী, গণসংহতি আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ফিরোজ আহমেদ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহবায়ক হামিদুল হক। সমাবেশ পরিচালনা করেন ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নজরুল ইসলাম।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ১৯৯৩ সালে ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তিতে জেরুজালেম বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইস্যুটি পরবর্তীতে নির্ধারিত হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর পূর্ব জেরুজালেমে অবৈধ ইহুদী বসতি গড়ে তোলা হয় এবং দুই লাখ ইহুদীকে অভিবাসি করা হয় আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে। জেরুজালেমের উপর ইসরাইলী সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নয়। ১৯৯৫ সালে ‘জেরুজালেম অ্যাম্বেসী অ্যাক্ট’ প্রণীত হওয়ার পর থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সকল রাষ্ট্রপতিগণ এ আইন বাস্তবায়ন না করে প্রলম্বিত করেছেন।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানকে ‘বাস্তবতার প্রতি স্বীকৃতি’ প্রদান বলে দাবি করেছেন, যা সত্য নয়। সত্য হচ্ছে ট্রাম্প তার জায়নবাদী ইহুদী সমর্থকদের নির্বাচনের সময় যে অঙ্গীকার করেছিলেন সে অঙ্গিকার পূরণের জন্যই এ ঘোষণা দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির এ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। ইসরাইল-ফিলিস্তিন চুক্তির বরখেলাপ করে মার্কিন রাষ্ট্রপতির অতি উৎসাহী এ উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে। ফিলিস্তিনীদের জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম নৎস্যাত করার এ চক্রান্ত মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বালিয়ে দিবে। সারা পৃথিবীতে সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও উগ্রতাকে উসকে দিবে।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে উস্কানী প্রদানকারী এ সিদ্ধান্ত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পিছিয়ে আসার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক আইন ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন শান্তি চুক্তি মান্য করে জেরুজালেম নগরীকে সকল ধর্মের মানুষের পবিত্র নগরী হিসেবে উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানান। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারকে তিনি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মার্কিনীদের আধিপত্যবাদী আচরণের নিন্দা জানানোর এবং ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রামের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার আহবান জানান। তিনি মার্কিন রাষ্ট্রপতির সাম্রাজ্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে সারা পৃথিবীর অসাম্প্রদায়িক, শান্তিকামী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জনতার মত বাংলাদেশের মানুষকেও জোটবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে প্রতিবাদমুখর হওয়ার আহবান জানান।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক নিরাপত্তা পরিষদের সভা আহবান করে মার্কিন রাষ্ট্রপতির এহেন সাম্রাজ্যবাদী-আধিপত্যবাদী আচরণের নিন্দা জানানোর জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল সম্পদের উপর একচেটিয়া আধিপত্য তৈরীর জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে পুনরায় বিঘ্নিত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। মার্কিনীদের এই চক্রান্তকে নস্যাৎ করার জন্য তিনি জাতিসংঘকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশ ঘৃণার প্রতীক হিসেবে সাম্রাজ্যবাদের মোড়ল মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিলি মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী শ্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রদক্ষিণ করে।