Biplobi Barta

Thursday, April 18, 2019

সাভার রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ৬ বছর পার হলেও ক্ষতিগ্রস্থ্ শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি।


আগামী ২৪ এপ্রিল ২০১৯ রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের ৬ বছর পূর্ন হতে চলেছে। সাভার রানা প্লাজায় ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল ১১৩৪ জন শ্রমিককে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে, ২৪৩৮ জন শ্রমিক স্থায়ী ভাবে পঙ্গুত্য বরণ করে বেঁচে আছে। ক্ষতিগ্রস্থ্ শ্রমিক ও শ্রমিক পরিবার ক্ষতিপূরণ পায়নি। দেশি-বিদেশি মানুষের অনুদানে তারা যে টুকু সহযোগিতা তারা পেয়েছে তা দিয়ে কোনরকম বেঁচে আছে। রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্থ্ শ্রমিকদের সহযোগিতা দেওয়ার নাম করে যে সব সরকারী-বে-সরকারী বিভিন্ন সংস্থা যারা টাকা পয়সা এনেছিল তারা এখন রানা প্লাজার শ্রমিকদের থেকে অনেক ভালো কেও কেও আছে ফুলে ফেঁপে অনেক বড় হয়ে গেছে। আবার কেও এমপি-মন্ত্রী হয়েছে, কেও কেও বাড়ী গাড়ীর মালিক হয়েছে। রানা প্লাজার ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকরা তারা কেও কেও চিকিৎসার অভাবে ছটফট করছে, বাচ্চাদের লেখাপড়া শেখাতে পারছেনা। অনেক পরিবার অর্ধা হারে অনাহারে কোন রকম বেঁচে আছে। কিছু আহত শ্রমিক আছে যারা পেটের তাগিদে অনেক কষ্ট করেও কোন না কোন কর্মে নিয়জিত হয়েছেন। তবে বেশীর ভাগ শ্রমিক বেকার জীবন যাপন করছেন। কিছু শ্রমিক আছে যারা কাজ করার ইচ্ছে থাকলেও তাদের কোথাও কাজ দেওয়া হচ্ছেনা। আমরা সরকারের কাছে দাবী জানিয়ে আসছি রানা প্লাজা ভবনের স্থানে জমি অধিগ্রহন করে শ্রমিকদের জন্য মার্কেট নির্মান করে ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের পুনঃবাসন ব্যবস্থা করা, এই মার্কেটে নিয়মিত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সরকারী উদ্যোগে হাসপাতাল নির্মান করা, যাতে আহত শ্রমিকরা এখানে চিকিৎসা নিতে পারে। নিহত শ্রমিকদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভবনের সামনে স্থায়ী বেদী নির্মান করা। রানাপ্লাজা ধ্বসের ঘটনায় দায়ী বেক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা। 

রানা প্লাজায় ৬ টি গার্মেন্ট কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তারা এখন অন্য যায়গায় গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, ভবন মালিক রানা রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের মামলাতে জামিনে আছে কিন্তু অন্য মামলাতে জেলে আছে, রানা জেলে থাকলেও আলিশান জীবন যাপন করছেন। রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী গার্মেন্ট মালিক ও সরকারী কর্মকর্তারা সবায় এক প্রকার দায়মুক্তি নিয়েছেন।
রানা প্লাজায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ড এটা নতুন কিছু না। বাংলাদেশে গার্মেন্ট শিল্প গড়ে ওঠার পর থেকেই এমন দুর্ঘটনা ঘটতেই আছে। 

১৯৯০ সালে আগষ্টে গ্লোব নিটিং কারখানায় আগুনে মারা যান ১২ জন শ্রমিক এবং ১৭ ডিসেম্বরে ঢাকার মিরপুরে সারাকা গার্মেন্টসে আগুনে পু‍‌ড়ে মারা গিয়েছিলেন ৩০ জন পোশাক শ্রমিক। ১৯৯৫ সালে রাজধানীর ইব্রাহিমপুরের লুসাকা অ্যাপারেলসের কারখানায় নিহত হন ১০ জন গার্মেন্ট কর্মী। ১৯৯৬ সালে  ঢাকার তাহিদুল ফ্যাশনে ১৪ জন এবং সানটেক্স লিমিটিডের কারখানায় ১৪ জন আগুনে পুড়ে মারা যান। ২০০০ সালে ২৫ নভেম্বর নরসিংদী চৌধুরী নিটওয়্যার এ্যাণ্ড গার্মেন্ট লিমিটেডে আগুনে পুড়ে মারা যান ৫৩ জন শ্রমিক ও ডিসেম্বরে নরসিংদীর শিবপুরে এক গার্মেন্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ৪৮ জন শ্রমিক এবং একই বছর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়িতে গ্লোব নিটিং ফ্যাশন লিমিটেড গার্মেন্টে কারখানায় মারা যান ১২ জন শ্রমিক।

২০০১ সালে ঢাকার মিরপুরের কাফরুলে অগ্নিকাণ্ডে মারা যান ২৫ জন শ্রমিক এবং মিরপুরে মিকো সুয়েটার লিমিটেডে আগুন লাগার পর পদদলিত হয়ে নিহত হন ২৪ জন শ্রমিক। ২০০৪ সালে ৩ মে মিসকো সুপার মার্কেট কমপ্লেক্সের এক গার্মেন্টে আগুন লেগে ৯ জন শ্রমিক মারা যান এবং নরসিংদীর শিবপুরে গার্মেন্ট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ৪৮ শ্রমিক নিহত হন। ২০০৫ সালে ৭ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টে আগুন লেগে ২২ জন শ্রমিক মৃত্যুবরণ করেন এবং সাভারের আশুলিয়া পলাশ বাড়ীতে ১১ এপ্রিলে স্পেক্ট্রাম গার্মেন্টসের ভবন ধ্বসে নিহত হয়েছিলেন অন্তত ৮৬ জন। ২০০৬ সালে ৯ ফেব্রুয়ারি গাজিপুরের যমুনা স্পিনিং মিলে আগুনে পুড়ে মারা যান ৬ জন শ্রমিক ও ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের কেটিএস কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলে আগুনে ৯১ জন শ্রমিক পুড়ে মারা যান তার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ঢাকার তেজগাঁয়ে অবৈধভাবে সংস্কার চালানোর সময় ফিনিক্স ভবন ধ্বসে মারা গেছিল ১৮ জন শ্রমিক এবং একই বছর মার্চ মাসে সায়েম ফ্যাশন লিমিটেডে আগুনে ৩ জন শ্রমিক মারা যান। ২০১০ সালে ২৫শে ফেব্রুয়ারি গাজীপুরে গরীব এ্যাণ্ড গরীব সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে আগুনে মারা যান ২১ জন শ্রমিক এবং ২৪শে ডিসেম্বর আশুলিয়াতে হামিম গার্মেন্টস অগ্নিকান্ডে নিহত হয় ৩০ জন। 

২০১২ সালে ২৪শে নভেম্বর আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশন ফ্যাক্টরিতে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে মারা গেলেন ১১ জন পোশাক-শ্রমিক। ২০১৩ সালে ২৪শে এপ্রিল সাভার রানা প্লাজায় ভবন ধ্বসে মারা যান ১১৩৪ জন পোশাক-শ্রমিক এবং ২৬ জানুয়ারি ঢাকার মোহাম্মদপুরে এলাকায় স্মার্ট এক্সপোর্ট নামের কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ৭ জন শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা যায়। ২০১৬ সালে ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬ টঙ্গীর টাম্পাকো ফুয়েল কারখানায় আগুনে পুড়ে ৪০ জন শ্রমিক মারা যায়। ২০১৭ সালে ৩ জুলাই গাজীপুরের কোনাবাড়ী নয়াপড়া এলাকায় মাল্টিফ্যাব লিমিটেড পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩ শ্রমিক মারা যায় । 

বাংলাদেশে পোশাক শিল্প গড়ে ওঠার পর প্রথম দিক থেকেই আগুনে পুড়ে, ভবন ধ্বসে, বয়লার বিস্ফোরণে শ্রমিক হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে অথচ এপর্যন্ত দায়ী বেক্তিদের কোন বিচার বা শাস্তি হয়েছে বলে আমি শুনিনি। প্রথম দিকেই কারখানায় শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী বেক্তিদের যদি শাস্তি নিশ্চিত করা হতো তাহলে এত শ্রমিকের প্রান হারাতে হতো না। এবং এই সব দুর্ঘটনার আগে-পরে, মাঝে মাঝে কিছু দিন পরে পরেই বিভিন্ন দুর্ঘটনায় গার্মেন্ট শ্রমিক মারা যেতেই আছে। এর একটি ঘটনাতেও কারো কোন শাস্তি হয়নি। কয়েকটি কারখানার মালিক নাম মাত্র ক্ষতিপূরণ দিলেও প্রায় বেশীর ভাগ কারখানার মালিক শ্রমিক-শ্রমিক পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেননি এবং এই সব দুর্ঘটনায় হাজার হাজার শ্রমিক আহত হয়ে যারা বেচে আছে তাদের চিকিৎসা, ক্ষতিপূরণ, পুনবাসন কোনটায় করেননি গার্মেন্ট মালিকরা। অথচ এই সব গার্মেন্ট মালিকরা তারা তাদের ব্যাবসা দিনে দিনে আরো উন্নত করে চলেছেন।
২৪ এপ্রিল রানা প্লাজার ঘটনার পর বায়ারদের দুটি জোট একোর্ড এবং এলাইন্স বাংলাদেশে গার্মেন্ট কারখানা গুলোর ভবনের নিরাপত্তা তদারকির পরে গার্মেন্ট কারখানা গুলো অনেকটা নিরাপদ মনে হলেও যতেষ্টনা। কারখানায় শ্রমিকদের নিরাপত্তার পাশাপাশি কারখানার বাইরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

যেমন, শ্রমিকদের নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য পরিবহণ ও পায়ে হেটে চলা শ্রমিকের জন্য রাস্তার পাশে ফুটপাত, রাস্তার পাশে ময়লা ফেলা বন্ধ এবং অলিগলি সহ সকল রাস্তায় বাতির ব্যবস্থা করা, কারখানার গেইটে শ্রমিক ছাউনি নির্মান করা, স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ বাস্থানের ব্যবস্থা, সরকারী স্কুল-কলেজ নির্মান করে শ্রমিকদের সন্তানের লেখাপড়া ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুকরা, প্রতি শিল্পাঞ্চলে বার্নইউনিট সহ সরকারী হাসপাতাল নির্মান করা। শ্রমিকদের বাচ্চাদের রাখার জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার নির্মান করা।

খাইরুল মামুন মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

Monday, April 15, 2019

জননেতা কমরেড মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ৭১ তম জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা


বীর মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ১৯৪৮ সালের ১৬ এপ্রিল আজকের এই দিনে ঢাকার অদূরে সাভারে জন্ম গ্রহণ করেন।
 
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের বাবা মোসলেহ উদ্দিন খান ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা আর মা উম্মে হানী খানম ছিলেন নারীনেত্রী ও সমাজসেবক। স্কুল জীবনে স্কাউটসহ নানাবিধ সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। স্কুলছাত্র থাকাকালীন ১৯৬৬ সালে আউযুব খানের বিরুদ্ধে মিছিল করতে গিয়ে সেলিম কারাবরণ করেন। কলেজে পা দিয়েই সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন বামপন্থী ছাত্র আন্দোলন ও রাজনীতিতে। এ সময় তিনি গোপনে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গেও যুক্ত হন। তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। 

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রথম সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স করেন।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বর্তমানে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)’র সভাপতি। তিনি স্বাধীনোত্তর বাংলাদেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর প্রথম সহ সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন যৌথ গেরিলা বাহিনীর কমান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্র জীবন শেষে সেলিম পার্টি-জীবনকে বেছে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ক্ষেতমজুরদের সংগঠিত করার কাজে মনোযোগ দেন। তিনি বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিগত শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকে শুরুর দিক থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ২০১২ সালে পার্টির দশম কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কারণে প্রায় আট বছর কারাবরণ ও আত্মগোপনে ছিলেন এই নেতা। ব্যক্তিগত জীবনে সেলিম এক মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের জনক।

Wednesday, April 3, 2019

ছোট আকারের কারখানা স্থাপন করতে চাইলে তাকে কঠোর নিরীক্ষা এবং পরিদর্শনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে।


 শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন উদ্যোক্তাদের সুযোগ কমেছে। কর্মপরিবেশ নিরাপদ করার শর্ত মেনে স্বল্প মূলধনে ছোট আকারের কারখানা স্থাপন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের ইচ্ছা থাকলেও বিপুল বিনিয়োগের ভয়ে এ শিল্পে আসতে পারছেন না তারা। স্বল্প মূলধনে ছোট আকারের কারখানা স্থাপন কারি মালিকরা বড় কারখানার মালিকদের কাছে জিম্মি হয়ে তাদের কারখানা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
 
তাজরিন ফ্যাশনের অগ্নিকাণ্ড এবং রানা প্লাজা ধসসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় দুর্ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতা এবং ব্রান্ডের প্রতিনিধিরা ছোট কারখানায় কাজ দিচ্ছে না। অনিরাপদ কর্মপরিবেশের অভিযোগে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে তারা এ ধরনের কারখানায় ক্রয় আদেশ দিচ্ছে না বলে জানা যাচ্ছে। এসব ছোট কারখানা গুলোতে সাধারণত সাব-কন্ট্রাক্টে চলত। সাধারণত কোনো কারখানায় অতিরিক্ত কার্যাদেশ থাকলে তারা দ্বিতীয় কোনো কারখানায় কার্যাদেশ দিলে তাকে সাব-কন্ট্রাক্টিং বলে। এটি বিদেশি তৈরি পোশাক ক্রেতাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহে সহায়তা করে। কম খরচের কারণে প্রাথমিকভাবে নতুন উদ্যোক্তারা এ ধরনের কারখানা স্থাপন করেই পোশাক শিল্পে তাদের যাত্রা শুরু করতেন। তবে পরপর দুটি দুর্ঘটনায় সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানার সম্ভাবনা বা সুযোগ রাতারাতি বন্ধ হয়ে যায়।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কম মূলধন এবং স্বল্প পরিচালন ব্যয়ের কারণে সাব-কন্ট্রাক্টিং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। তৈরি পোশাক শিল্পে বড় উদ্যোক্তা হওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অনেকেই সাব-কন্ট্রাক্টিং শুরু করেন। গার্মেন্ট মালিকরা মনে করেন, সাব-কন্ট্রাক্ট ব্যবসা তৈরি পোশাক শিল্পে নিষিদ্ধ হয়নি। তবে কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশ অবশ্যই নিরাপদ হতে হবে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে একটি কারখানা স্থাপন অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। যার কারণে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ছোট কারখানার অনিরাপদ কর্মপরিবেশের কারণে সাব-কন্ট্রাকের কাজ তাদের দেয়া হচ্ছে না। শুধু ক্রেতা রাজি হলে বড় কারখানায় সাব-কন্ট্রাক্টিং কাজ হচ্ছে। রানা প্লাজা ধসের পর কোনো নতুন সাব-কন্ট্রাক্টিং ইউনিট তৈরি হয়নি। শুধু কর্মপরিবেশের দিক থেকে নিরাপদ বড় কারখানায় এ ধরনের কাজ হচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মূল কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের সহযোগী প্রতিষ্ঠানে এমন কাজ হচ্ছে। যার কারণে বড় বড় কারখানার মালিকরা প্রয়োজনে তাদের কারখানার শাখা বাড়াচ্ছেন।

বর্তমানে কেউ এখন ছোট আকারের কারখানা স্থাপন করতে চাইলে তাকে কঠোর নিরীক্ষা এবং পরিদর্শনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আগে এসব বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে ঘাটতি ছিল, ক্রেতার শর্ত অনুযায়ী এখন একটি কমপ্লাইন্স কারখানা স্থাপন তাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।

রানা প্লাজা ধসের পর ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী কর্মপরিবেশ উন্নতি না করতে পারা বা সংস্কার কাজ না করতে পারায় ১২০০-এর বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বড় বড় গার্মেন্ট মালিকরা তা কিনে নিয়েছেন। বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ১৫০টি সদস্য কারখানা ছিল। ২০১২-১৩ অর্থবছরে সেটি বেড়ে ৫ হাজার ৮৭৬টিতে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু রানা প্লাজা ধসের পর আমেরিকা এবং ইউরোপের ক্রেতাদের জোট অ্যালায়েন্স এবং অ্যাকর্ডের পরিদর্শনের পর অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। এদের মধ্যে সাব-কন্ট্রাক্টিং করত এমন কারখানার সংখ্যাই বেশি। মাত্র এক বছর পরেই বিজিএমইএর সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২২২টিতে। তবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বড় কিছু শিল্প গ্রুপ তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন বিনিয়োগ করে এবং নতুন কারখানা স্থাপন করে। যার ফলে এ বছরে বিজিএমইএর সদস্য কারখানার সংখ্যা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৬০টিতে। গার্মেন্ট মালিকের সংখ্যা কমে গেলেও কারখানা ও শ্রমিকের সংখ্যা কমেনি বরং বেড়েছে। 

সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুই দিকই রয়েছে। প্রথমত এটি কাজের সময় কমিয়ে আনতে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত অদক্ষ এবং আধা দক্ষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে। কারণ এ ধরনের কারখানায় অপেক্ষকৃত কম জটিল কাজ করা হয়। অন্যদিকে খারাপ দিকটি হলো কর্মপরিবেশ নিরাপদ করার জন্য এ ধরনের কারখানাগুলোর কোনো উদ্যোগ থাকে না। শ্রম আইন যথাযত মেনে চলেনা, এটি এ শিল্পে বড় দুর্যোগের জন্য দায়ী। সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের বিষয়ে কোনো নির্দেশিকা না থাকায় কর্মপরিবেশ নিরাপদের বিষয়টি শুধু ক্রেতার চাহিদার ওপর নির্ভর করে। তবে সাব-কন্ট্রাক্টিং চালু না থাকলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে না। শুধু বড় কারখানা মালিকরাই তাদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগ বাড়াবে।

লিখেছেনঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র
০৪ এপ্রিল ২০১৯