Biplobi Barta

Tuesday, February 13, 2018

১৪ ফেব্রুয়ারি, স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস ।

 ১৯৮২ সালের ২৪ শে মার্চ লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এক সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা দখল করে। সবাই এ ব্যাপারে নীরব থাকলেও নীরব থাকেনি ছাত্রসমাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রথম শুরু হয়েছিল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। ২৪ শে মার্চেই কলাভবনে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে পোস্টার লাগাতে গিয়ে গ্রেফতার ও সাত বছরের সশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত হন ছাত্রনেতা শীবলি কাইয়ুম, হাবিবুর রহমান ও আব্দুল আলী। এরপর ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে সাভার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিতে গিয়ে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতারা স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠে স্লোগান দেয়। সেনাবাহিনী স্মৃতিসৌধেই ছাত্রদের ওপর চালায় নির্মম নির্যাতন। সরকারি ফরমান জারি করে ছাত্রদের রাজনৈতিক কর্মকান্ড অসম্ভব করে তোলা হয়। ছাত্ররা দেয়াল লিখে ও সামরিক সরকার তা মুছে দিতে থাকে। সেপ্টেম্বরে প্রথম ছাত্রনেতারা লিখিত প্রতিবাদ হিসেবে সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিবৃতি প্রদান করে।
সামরিক সরকারের শিক্ষামন্ত্রী মজিদ খান ক্ষমতায় এসেই নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেন। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকেই বাংলার সাথে ইংরেজী ও আরবি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়। ধর্মকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব ও রেসাল্ট খারাপ হলেও যারা ৫০% শিক্ষার ব্যয়ভার দিতে সমর্থ তাদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেয়ার কথা বলা হয় এতে। এই নীতিতে দরিদ্ররা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হতো বলে ছাত্ররা এর প্রবল বিরোধীতা করে।১৯৮২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর শিক্ষা দিবসে এই শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলো ঐক্যমত্যে পৌঁছে। ২১ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয় এবং তারা শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনমত তৈরির কাজ চালায়। এই আন্দোলনকে প্রতিহত করার জন্য ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ ফারুককে গ্রেফতার করলে প্রতিবাদে ছাত্ররা ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি ছাত্র ধর্মঘট পালন করে। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারিছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচী হাতে নেয়। সেদিনই জন্ম নেয় এদেশের ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায়ের।
১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, এদেশের ইতিহাসে একটি নিকষ কালো দিন। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ মজিদ খানের কুখ্যাত শিক্ষানীতি প্রত্যাহার, বন্দি মুক্তি ও গণতান্ত্রিক অধিকারে দাবি ও গণমুখী, বৈজ্ঞানিক ও অসাম্প্রদায়িক শিক্ষানীতির দাবিতে ছাত্র জমায়েত ডাকে। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচীতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ ও সুশৃংখল মিছিল যায় হাইকোর্টের গেট ও কার্জন হল সংলগ্ন এলাকায়। মিছিলটি হাইকোর্টের গেট থেকে বাংলা একাডেমী পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছিল। মেয়েরা ব্যারিকেডের সামনে বসে ও নেতারা তারের ওপর উঠে বক্তৃতা শুরু করলে পুলিশ বিনা উস্কানীতে তারের একপাশ সরিয়ে রায়ট কার ঢুকিয়ে রঙ্গিন গরম পানি ছিটাতে থাকে, বেধড়ক লাঠিচার্জ, ইট-পাটকেল ও বেপরোয়া গুলি ছুড়তে শুরু করে। গুলিবিদ্ধ হয় জয়নাল। এরপর গুলিবিদ্ধ জয়নালকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারা হয়। ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে জয়নালকে মৃত ঘোষণা করার পর আরো ফুসে উঠে ছাত্ররা। শিশু একাডেমীর এক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা শিশু দিপালীও গুলিবিদ্ধ হয় এবং পুলিশ তার লাশ গুম করে ফেলে। সেখানে ছাত্র, শিশু ও অভিভাবকদের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন, লাশের স্তূপ গড়ে ওঠে শিশু একাডেমীতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ নিহত ও আহত মানুষদের এম্বুলেন্স পাঠিয়ে নিয়ে আসতে চাইলে ঢুকতে দেয়নি খুনী বাহিনী। সব লাশ গুম করে ফেলে তারা। কিছু না ঘটা সত্ত্বেও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে এমন অপপ্রচার চালিয়ে সামরিক সরকার উস্কে দেয় পুলিশকে। ঐদিন নিহত হয়েছিল জয়নাল, জাফর, কাঞ্চন, দীপালীসহ আরো অনেকে।
বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় নোয়াখালীর চাটখিল থানার দোলাইপাড় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার সপ্নে বিভোর সংগ্রামী জয়নালকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ছাত্র-শিক্ষক ও ক্ষুব্ধ জনতার ঢল নামে। তার জানাজায় অংশ নিতে আসা হাজার হাজার মানুষের ওপর আর্মড পুলিশ, বি.ডি.আর ও মিলিটারি, রায়টকার ও শত শত সাজোয়া গাড়ি নিয়ে এসে হিংস্রভাবে ঝাপিয়ে পড়ে। অপরাজেয় বাংলার সমাবেশে নির্বিচারে চলে গ্রেফতার, বুটের আঘাত ও লাঠি চার্জ। শিক্ষক ও অভিভাবকরাও আক্রমন থেকে রেহাই পায়নি। ছাত্র-ছাত্রীদের কলাভবন ও উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে হাত-পা ভেঙ্গে গ্রেফতার করে ট্রাকভর্তি করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে উপাচার্য পদত্যাগ করেন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতা খ ম জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়।
বটতলায় আক্রমণের পর জয়নালের লাশ মুহসীন হলের ডাইনিংয়ে রাখা হয়, পরদিন ভোরবেলা সংগ্রামে নিয়ে যাবার জন্য। লাশের সন্ধানে পুলিশ নির্যাতন চালায় চারুকলার শিক্ষার্থীদের ওপর। পোশাকে রঙ্গীন পানির দাগ দেখে ধরে নিয়ে যায় অনেককে। সরকারীমতেই গ্রেফতার করা হয় ১,৩৩১ জন ছাত্র-জনতাকে, বাস্তবে এই সংখ্যা আরো অধিক ছিল। তাদের শাহবাগের পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ও ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে গিয়ে চালায় অকথ্য নির্যাতন। এখানেই মেরে ফেলা হয় অনেককে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশনের প্রবল চাপে পড়ে ১৫-১৬ তারিখের মধ্যেই তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় সামরিক সরকার। অনেকে থাকে নিখোঁজ, যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি আজো।
১৫ ফেব্রুয়ারি জগন্নাথ কলেজের মোড়ে গুলি চালিয়ে দুই তরুণকে হত্যা করা হয়। সদরঘাটে এ শিশুকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মেরে ফেলা হয়।পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের দুই ছাত্রকে ছাদ থেকে ফেলে মারা হয়। বুয়েট, ঢাকা মেডিকেলসহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রাবাস থেকে গ্রেফতার করা হয় ছাত্রদের।
এই ঘটনার জোয়ার লাগে চট্টগ্রাম শহরেও। মেডিকেল ও অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীদের মিছিলে পুলিশ লাঠি চার্জ ও গুলি চালালে নিহত হয় কাঞ্চন।
ছাত্রদের তিনটি মৌলিক দাবিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি শিক্ষানীতি স্থগিত হয়ে যায় ও ছাত্র বন্দিদের মুক্তির দাবির প্রেক্ষিতে পূর্বে আটক তিন ছাত্রনেতা মুক্তি পায়। ঘরোয়া রাজনীতির অধিকার দিতে বাধ্য হয় সামরিক সরকার। ১,০২১ জনকে ছেড়ে দেয় ১৭ ফেব্রুয়ারি ও আটক রাখে ৩১০ জনকে।

 সেই থেকে জয়নাল, জাফর, কাঞ্চন, দীপালীসহ আরো অনেকের রক্তস্নাত এই দিনটিকে ‘স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
লিখেছেনঃ ফাহিমা কানিজ লাভা , ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৪

Sunday, February 11, 2018

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৭৬ নং ধারার বিধান অনুযায়ী- মালিক ও শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন ।


(ক) মুখ্যতঃ শ্রমিক এবং মালিকের সম্পর্ক, অথবা শ্রমিক এবং শ্রমিকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কোন পার্থক্য ছাড়াই সকল শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সাপেক্ষে তাহাদের নিজস্ব পছন্দের ট্রেড ইউনিয়নের যোগদানের অধিকার থাকিবে ।
(খ) মুখ্যতঃ মালিক এবং শ্রমিকের সম্পর্ক, অথবা মালিক এবং মালিকের সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে কোন পার্থক্য ছাড়াই সকল শ্রমিকের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র সাপেক্ষে তাহাদের নিজস্ব পছন্দের ট্রেড ইউনিয়নের যোগদানের অধিকার থাকিবে ।
(গ) শ্রমিকগণের এবং মালিকগণের ট্রেড ইউনিয়নের ফেডারেশন গঠন করার এবং উহাতে যোগদান করার অধিকার থাকিবে, এবং উক্তরূপ কোন ইউনিয়ন বা ফেডারেশন এর শ্রমিক অথবা মালিকগণের সংগঠনের কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা বা কনফেডারেশন এর সহিত সম্বন্ধীকরণের অধিকার থাকিবে ।
(ঘ) ট্রেড ইউনিয়নসমূহের এবং মালিকদের সমিতিসমূহের নিজস্ব গঠনতন্ত্র ও বিধিমালা প্রণয়নের, সম্পুর্ন স্বাধীনভাবে নিজস্ব প্রতিনিধিদের নির্বাচনের, সমিতির প্রশাসন ও কর্মতৎপরতা, সংগঠনের এবং কর্মসুচী প্রনয়নের অধিকার থাকিবে ।
(ঙ) যে প্রতিষ্ঠানের জন্য ট্রেড ইউনিয়ন গঠিত হইবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মোট শ্রম শক্তি বা সদস্যে শতকরা ২০ ভাগ মহিলা থাকিলে সে ক্ষেত্রে ইউনিয়ন নির্বাহী কমিটিতে ন্যূনতম ১০ ভাগ সদস্য থাকিতে হইবে ।
(তবে শর্ত থাকে যে, এই আইন দ্বারা যে ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন হইবে সেই ইউনিয়ন এই আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হইবে)
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর এই অধ্যায়ে শ্রমিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ইত্যাদি বৃদ্ধিসহ মালিক পক্ষের সহিত সুসম্পর্ক বজায় রেখে আইন ও বিধির আওতায় প্রয়োজনীয় সুজগ-সুবিধা এবং বিবিধ সমস্যা সমাধানসহ যাবতীয় বিষয়াদী সুষ্ঠভাবে সমাধানের নিমিত্তে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার অধিকার দেওয়া হইয়াছে । তাছাড়া মালিকপক্ষ এবং শ্রমিকগন ট্রেড ফেডারেশন ইউনিয়ন গঠন এবং উহাতে যোগদান করার অধিকার সবার থকিবে ।
অথচ বাস্তবে গার্মেন্ট শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার অধিকার নেই বললেই চলে । বাংলাদেশে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি গার্মেন্ট কারখানা আছে আর মাত্র ৫০০ গার্মেন্টে ট্রেড ইউনিয়ন আছে, তাও সচল না, বা সচল হতে দেওয়া হয়নি, যদি দু-একটি সচল থাকেও তা মাকিলদের অনুগত ট্রেড ইউনিয়ন । এবং গার্মেন্ট শিল্পে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ১০০’র বেশি ফেডারেশন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে । কিন্তু বাস্তবে দু-একটি ফেডারেশন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করলেও বেশির ভাগ ফেডারেশন মালিকদের অনুগত, তারা গোপনে কিংবা প্রকাশ্য মালিকদের পক্ষ নিয়েছে । আর যে ফেডারেশন শ্রমিকদের অধিকারে অটল থাকে তাদের নিবন্ধন দেওয়া হয়না ।
তার জলজ্যান্ত প্রমান রামপুরা অবস্থিত আশিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডঃ লিমিটেড’এ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র, বাড্ডা-রামপুরা আঞ্চলিক কমিটি’র উদ্যেগে আশিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডঃ লিমিটেড কারখানাতে শ্রম আইনের সকল বিধি-বিধান মেনে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে রেজিষ্ট্রার অফ ট্রেড ইউনিয়নে নিবন্ধন এর জন্য আবেদন করা হয় ।রেজিষ্ট্রার অফ ট্রেড ইউনিয়ন ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে কিছু সংশোধনের জন্য নুটিশ পাঠায় । শ্রম আইন অনুযায়ী ৩০দিনের মধ্যে সংশোধন জমা দিতে গিয়ে জানা যায় উক্ত কারখনাতে এরি মধ্যে আরেকটি ইউনিয়ন নিবন্ধন হয়ে গেছে । তার পর যে শ্রমিকরা গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রে’র পক্ষে ইউনিয়ন গঠন করে ছিলেন সেই শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের করে দেওয়ার মালিক পক্ষ নানান ষড়যন্ত্র করতে থাকেন । সর্বশেষ গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রে’র আশিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডঃ লিমিটেড’এ নেতা মামুনকে ৩য় ফ্লোর থেকে মৌখিক ভাবে বদলি করে ৫ম ফ্লোরে বদলি করে, মামুন বদলীর লিখিত আদেশ দাবী করায় তাকে কারখানা থেকে বহিষ্কার করে শ্রমিকরা এর প্রতিবাদ জানালে মালিক পক্ষ সমাধান না করে ইচ্ছে করে  কারখানাটি গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ইং তারিখ বাংলাদেশ শ্রম আইন ১৩(১)ধারা অনুযায়ী বন্ধ ঘোষণা করেন । যা বাংলাদেশ শ্রম আইন ১৩(১)ধারা অনুযায়ী সঠিক হয়নি । সমস্যা সমাধানে পরের দিন ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ইং তারিখ নির্ধারিত সভাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা মালিক সমিতি বিজিএমইএ কার্যালয়ে গেলে আলোচনা  হবে না বলে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন । শ্রমিকরা কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শুরু করলে একপর্যায়ে বিজিএমইএ’র সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মনসুর খালেদের নেতৃত্বে শ্রমিকদের ওপর হামলা করা হয় । হামলায় ৪০ জন নারী শ্রমিক গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । রিক্সা-মাইক ওয়ালার হাত ভেঙ্গে দেওয়া হয় এবং রিক্সা-মাইক ভেঙ্গে চুর্ন চুর্ন করে দেয় । বিজিএমইএ মামলা করেছে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে । অথচ শ্রমিকদের মামলা পুলিশ নেয়নি । বিজিএমইএ-র দায়েরকৃত মামলায় ১২ জন শ্রমিকনেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে যাদের ৯ জনই ঘটনাস্থলে ছিল না। বাকি ১৫০ জন শ্রমিক অজ্ঞাতনামা । আশিয়ানা  গার্মেন্ট কারখানার গেট  থেকে কারখানার শ্রমিকনেতা  এবং  প্রস্তাবিত  আশিয়ানা গার্মেন্ট ইন্ডা. লি.  শ্রমিক  ইউনিয়নের  অন্যতম সংগঠক  রাসেল আহমেদ  ও  মুন্না  মিয়াকে  গ্রেফতার  করে। তাদের  রমনা  থানার পুলিশ হেফাজতে  রাতভর  রেখে  সিএমএম  আদালতে  হাজির  করে  ১০  দিনের  রিমান্ড  চাওয়া  হয় । শ্রমিকনেতা রাসেল ও মুন্নার আইনজীবীগণ জামিন আবেদন করলে এবং নেতৃবৃন্দের  বিরুদ্ধে  উত্থাপিত  অভিযোগ  মিথ্যা  মর্মে  যুক্তি প্রমাণ  উপস্থাপন করার প্রেক্ষিতে  তাদের  ১  দিনের রিমান্ড  আদেশ  দেয়া  হয় এখনো তাদের জামিন মঞ্জুর হয়নি । এদিকে ২৬ জন শ্রমিককে বে-আইনি ভাবে চাকুরি চ্যুত করা হয়েছে ।
আশিয়ানা গার্মেন্টস ইন্ডঃ লিমিটেড’এর মত আরো অনেক ঘটনা আছে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করার কারনে নির্যাতন-নিপিড়ন-মামলা-হামলা’স্বীকার হতে হয়েছে ।

লেখকঃ খাইরুল মামুন মিন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র

Friday, February 2, 2018

গার্মেন্ট টিইউসি’র নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ- শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তিতে আলোচনার পথ ক্রমেই বন্ধ করা হচ্ছে


বেআইনী ভাবে বন্ধ রামপুরার আশিয়ানা গার্মেন্ট কারখানা খুলে দিয়ে সকল বেআইনী চাকুরিচ্যুতি আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে এবং গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র নেতৃবৃন্দের নামে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে আজ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র’র উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন এবং শিল্পে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সাথে হামলা-মামলা-নির্যাতন বন্ধ করে আলোচনার পথে সকল শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি’র সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ এর সভাপতিত্বে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম মিন্টুর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি’র কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, সাদেকুর রহমান শামীম, সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা জলি তালুকদার, জিয়াউল কবির খোকন, পরিবহন শ্রমিকনেতা হযরত আলী, এমএ শাহীন, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন, গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় নেতা প্রবীর সাহা, প্রস্তাবিত আশিয়ানা গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনিসুর রহমান রুবেল, সাধারণ সম্পাদক শাহানাজ, নাহার প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কদমফুল ফোয়ারা ঘুরে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বিজিএমইএ রমনা থানায় গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, সাদেকুর রহমান শামীম, মঞ্জুর মঈন, কেএম মিন্টু, জালাল হাওলাদার, মোহাম্মদ শাহজাহান, লুৎফর রহমান আকাশসহ আরও ১৫০ শ্রমিককে আসামী করে যে মামলা দায়ের করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, পুলিশ মালিকপক্ষের মিথ্যা মামলা গ্রহণ করলেও শ্রমিকপক্ষের মামলা নথিভুক্ত করেনি। তাই আগামী রবিবার আদালতে হামলার ঘটনায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকরা মামলা দায়ের করবে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গার্মেন্ট শিল্পে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হরণের পাশাপাশি বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির পথকে ক্রমেই সঙ্কুচিত করা হচ্ছে। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত হলো, আশিয়ানা গার্মেন্টের শ্রমিকদের বিজিএমইএ ভবনে আলোচনায় ডেকে আলোচনা না করে তাদের ওপর হামলা করার ঘটনা। নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলে উন্নত এবং টেকসই শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হবে না। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, গত বছর মে মাসে আশিয়ানা কারখানার শ্রমিকরা একটি ইউনিয়ন গঠন করে আইনী পথে তা নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। মালিক পক্ষ তার সর্বশক্তি নিয়োগ করে নিবন্ধ না পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। শ্রমিকরা যাতে ভবিষ্যতে শ্রমিক ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় দায়িত্বশীল কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন নিতে না পারে সেজন্য মালিক পক্ষ কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের শ্রমিক সাজিয়ে একটি ভুয়া ইউনিয়ন নিবন্ধন নেয়ার ব্যবস্থা করে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এখানেই না থেমে ইতোপূর্বে কারখানার মালিক পক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে নেতৃস্থানীয়দের চাকুরিচ্যুতির একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সর্বশেষ তারা কারখানার লাইন আয়রণম্যান মামুন কে বেআইনী ভাবে বরখাস্ত করলে শ্রমিকরা তার প্রতিবাদ জানায়। এঘটনার পরের দিন ৩০ জানুয়ারি কারখানা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে। সমস্যা সমাধানে পরের দিন নির্ধারিত সভাকে কেন্দ্র করে শ্রমিকরা মালিক সমিতি বিজিএমইএ কার্যালয়ে গেলে আলোচনা হবে না বলে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন। শ্রমিকরা কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে সেখানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শুরু করলে একপর্যায়ে বিজিএমইএ’র সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মনসুর খালেদের নেতৃত্বে শ্রমিকদের ওপর হামলা করা হয়। সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, বহু বছর ধরে কারখানা ভিত্তিক অথবা জাতীয় দাবিতে বিজিএমইএ ভবনে গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি’র শত শত কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আলোচনায় কখনো সমাধান হয়েছে, কখনো সমাধান না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত থেকেছে। কিন্তু মালিক সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লোহার পাইপ, রড ও লাঠিশোটা হাতে শ্রমিকদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার এমন ঘটনা নিকট অতীতে ঘটেনি। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের চলমান মজুরি বৃদ্ধির নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চক্রান্ত হিসেবে এসব ঘটানো হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে আশিয়ানা গার্মেন্ট খুলে দেয়া, সকল বেআইনী চাকুরিচ্যুতি আদেশ প্রত্যাহার এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলা-নির্যাতন বন্ধের দাবি জানানো হয়। একইসাথে সকল প্রকার শিল্প বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আলোচনার পথ রুদ্ধ না করে শিল্পে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য মালিক ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো

আলোচনায় ডেকে শ্রমিকাদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ

 বেআইনীভাবে বন্ধ ঘোষিত আশিয়ানা গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকদের আলোচনায় ডেকে আজ ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ বিজিএমইএ ভবনে তাদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। এ ঘটনায় শতাধিক গার্মেন্ট শ্রমিক আহত হয়। গুরতরভাবে আহত ৩৭ জন শ্রমিক বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসারত আছে।
আজ এক বিবৃতিতে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি অ্যাড. মন্টু ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, গত ২০১৬ সালের মে মাসে আশিয়ানা গার্মেন্ট কারখানার শ্রমিকরা একটি ইউনিয়ন গঠন করে। তা নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে জমা দেয়ার পর থেকেই নেতৃস্থানীয় শ্রমিকদের চাকুরিচ্যুত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। এর প্রেক্ষিতে একাধিকবার শ্রম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তা সত্তে¡ও গত গত ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ এক শ্রমিককে সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে তাৎক্ষণিক চাকুরিচ্যুত করা হলে কারখানার শ্রমিকরা তার প্রতিবাদ জানায়। গত ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ সকাল থেকে মালিকপক্ষ সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে এবং বেআইনীভাবে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করলে, ব্যাপক শ্রম অসন্তোষ দেখা দেয়। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, গতকাল শ্রমিক প্রতিনিধি, গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসি’র নেতৃবৃন্দকে ডেকে স্থানীয় প্রশাসন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা এবং মালিকপক্ষ আজ ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ সকাল ১১টায় বিজিএমইএ ভবনে আলোচনার জন্য আহŸান জানায়। সেই আহŸানে আজ বিজিএমইএ ভবনে শ্রমিকরা উপস্থিত হয়েছিল। সকাল থেকেই শ্রমিকদের উপস্থিত ছিল শান্তিপূর্ণ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সকাল ১১টা থেকে বিজিএমইএ-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভা হবে না মর্মে শ্রমিকদের জানান। শ্রমিকরা অপেক্ষার এক পর্যায়ে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শুরু করলে বিজিএমইএ-র সিনিয়র অতিরিক্ত সচিব মনসুর খালেদের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এসময় মাইক্রোফোনের তার ছিড়ে ফেলা এবং ব্যানার কেড়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ভবনের ভেতর থেকে শতাধিক ব্যক্তি লোহার রড ও লাঠি শোঠাসহ শ্রমিকদের ওপর হামলা করে। এসময় মাইক ও বহনকারী রিকশা ভাংচুর করা হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, ফলে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে এমন সময় এই হামলার ঘটনা পরিকল্পিত এবং মজুরি বৃদ্ধির প্রসঙ্গকে ভিন্ন প্রবাহিত করার অপচেষ্টা।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বহু বছর থেকে আমরা বিজিএমইএতে শ্রমিকদের দাবি দাওয়া নিয়ে যাই। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়। ঘেরাওসহ আরো কঠোর কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে নাই।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আলোচনায় ডেকে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে গ্রহণ না করে হামলা করে শ্রমিকদের আহত করা ন্যাক্কারজনক। তারা হামলার জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।
নেতৃবৃন্দ একইসাথে অবিলম্বে বেআইনীভাবে বন্ধ কারখানা খুলে দেয়া এবং সকল অন্যায় চাকুরিচ্যুতি আদেশ প্রত্যাহার করা এবং অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করে শিল্পে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষার দাবি জানান।
হামলা করে শ্রমিক ও গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসির নেতৃবৃন্দকে আহত করার প্রতিবাদে আজ বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিকনেতা সাদেকুর রহমান শামীম, মঞ্জুর মঈন, জয়নাল আবেদীন প্রমুখ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।