Biplobi Barta

Tuesday, October 24, 2017

চীন যে পথে যাচ্ছে





চীন আয়তনে বিশে^র তৃতীয় বৃহত্তম দেশ- নব্বই লাখ ষাট হাজার বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যায় প্রথম- এক শত ত্রিশ কোটি। চীনের অর্থনীতি পৃথিবী দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা রিজর্ভের অধিকারী চীন। নিজ দেশের বাইরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ চীন। ২০১৬ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.২%, যেখানে বিশ^ গড় ছিল ২.৫%। বিশ^ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে চীনের অবদান ৩০%, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি। ২০১৬ সালে চীনের মাথাপিছু আয় ৮,০০০ মার্কিন ডলার। পৃথিবীর দ্রুততম অগ্রসর অর্থনীতি চীনের। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোক্তা বাজার হচ্ছে চীন। ২০১৬ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ি জনসংখ্যার ৫৭.৩৬% শহরে বাস করে। বিশ^ উদ্ভাবন সূচকে চীনের অবস্থান ২৫তম। ১৯৭৮ সাল থেকে গত ত্রিশ বছরে চল্লিশ কোটি মানুষকে দারিদ্রসীমার উর্ধ্বে তুলে এনেছে চীন। ২০১৬ সালের হিসাব অনুযায়ি দারিদ্রসীমার নীচে বসবাসকারী চার কোটি তেত্রিশ লাখ পঞ্চাশ হাজার মানুষের (যাদের বার্ষিক মাথাপিছু গড় আয় ২,৩০০ ইউয়ান বা ৬০০ মার্কিন ডলারের নীচে) দারিদ্র বিমোচন করে ২০২০ সালের মধ্যে চীনে দারিদ্রসীমার নীচে কাউকে থাকতে দিবে না। ১৯৫৮ সালে সিপিসি’র চেয়ারম্যান মাও সেতুং উল্লেখ করেছিলেন চীন সমাজতন্ত্র বিনির্মাণের প্রারম্ভিক পর্যায়ে (ইনিশিয়াল ষ্টেজ অব সোশ্যালিজম) রয়েছে। ’প্যারামাউন্ট লীডার’ দেং শিয়াও পিঙ বলেন, ’ আমাদের পরিষ্কার করে বলতে হবে সমাজতন্ত্র মানে কী এবং সমাজতন্ত্র কীভাবে বিনির্মাণ করা যাবে। ... সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক কাজ হচ্ছে উৎপাদিকা শক্তিকে বিকশিত করা এবং মানুষের বস্তুগত ও সামাজিক সম্পদের বিস্তৃতি ঘটানো। ১৯৫৮ থেকে ১৯৭৬ এই বিশ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে সমাজতন্ত্র মানে দারিদ্র নয়, সমাজতন্ত্রের কাজ হচ্ছে দারিদ্র বিমোচন করা। উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ ও জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন না ঘটানোটা সমাজতন্ত্র নয়।’ চীনের উৎপাদিকা শক্তির বিকাশ ও জনগণের জীবনমানের স্তর পর্যালোচনা করে ১৯৯২ সালে চতুর্দশ কংগ্রেসে সিপিসি ঘোষণা করে চীন সমাজতন্ত্র বিনির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে (প্রাইমারী ষ্টেজ অব সোশ্যালিজম) রয়েছে।
আগামী ২০২১ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি এবং ২০৪৯ সালে গণচীন শততম বার্ষিকীতে পদার্পন করবে। ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে সিপিসি’র অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেসে সিপিসি দুটি শতবার্ষিকী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে চীন পরিণত হবে মোটামুটি সমৃদ্ধশালী দেশ-এ। গড় মাথাপিছু আয় ১০,০০০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হবে। ২০৪৯ সালে চীন হবে শক্তিশালী (স্ট্রং), সভ্য (সিভিলাইজড), সমন্বিত (হারমোনিয়াস), সুন্দর (বিউটিফুল) আধুনিক সমাজতান্ত্রিক দেশ। পার্টির সাধারণ সম্পাদক শি জিনপিঙ চীনের এ পুনর্জাগরনকে (রিযুভিনেশান) ’চীনা স্বপ্ন’ বা ’চাইনিজ ড্রীম’ আখ্যায়িত করেছেন।
চীনাদের এই চাইনিজ ড্রীমকে বাস্তবতায় পরিণত করার মহাকর্মযজ্ঞের দায়িত্ব গ্রহন করবে কারা? নিশ্চয়ই চীনের বিপুল জনগোষ্ঠীকে এ দায়িত্ব গ্রহন করতে হবে। আর এই কর্মযজ্ঞে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি। অষ্টাদশ জাতীয় কংগ্রেস পার্টি সদস্যদেরকে এ কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে আদর্শিক ও নৈতিকভাবে যোগ্য হওয়ার আহবান জানিয়েছে এবং পার্টির দিক থেকে সদস্যদের যোগ্য করে তোলার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য সংখ্যা ৮,৯৪,৪০,০০০। তৃণমূল (শাখা) কমিটি ৪৫,১৮,০০০ টি, কাউন্টি (জেলা) কমিটি ২,৭৮০ টি, মিউনিসিপ্যাল কমিটি ৩৯৬ টি, প্রাদেশিক কমিটি ৩১ টি। কেন্দ্রীয় কমিটির ২৫ জনকে নিয়ে পলিটব্যুরো গঠিত হয়। পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটি ৭ জনকে নিয়ে গঠিত। পার্টির সাধারণ সম্পাদক দুই টার্মের জন্য নির্বাচিত হন। সাধারণ সম্পাদককে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। 
সিপিসি’র সদস্যদের মধ্যে শ্রমিক ৭০.৯ লাখ (৭.৯২%), কৃষক ২৫৯.৬ লাখ (২৮.৯%), সেবাখাতে কর্মরত ১৩২.৪ লাখ, সরকারী কর্মচারী ৭৫.৬ লাখ, ছাত্র ১৮.৭ লাখ, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ ১৬০ লাখ, ব্যবসায়ি ৯৯ লাখ ইত্যাদি। 
এ বিপুল সদস্য সংখ্যা এবং বিশাল সংগঠনকে আদর্শিক, নৈতিকভাবে যোগ্য করার জন্য সিপিসি পার্টি শিক্ষাকে জোরদার করেছে। দলের সকল পর্যায়ে দূর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রামকে তীব্র করেছে। পার্টি সদস্যদের জন্য আত্ম শৃংখলার নিয়মকে কঠোরতর করেছে। মিতব্যয়িতার আটটি ধারা নির্ধারন করে দিয়েছে।
পার্টি শিক্ষার গুরুত্ব: পার্টির অধীনে নানা পর্যায়ে প্রাথমিক থেকে উচ্চ পর্যায়ে পার্টি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। সর্বোচ্চ পার্টি স্কুল- সেন্ট্রাল পার্টি স্কুল এন্ড দি ন্যাশনাল স্কুল অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বেইজিং এ অবস্থিত। সাংহাইয়ের পুডং, শানসির ইয়ানান এবং চিয়াংসির চিংকাশানে তিনটি উচ্চমানের লিডারশীপ একাডেমি রয়েছে। সারাদেশে ৪,৫০০ পার্টি স্কুলে ১,০৮,০০০ প্রশিক্ষক প্রতিবছর দেড় কোটি পার্টি ক্যাডারকে প্রশিক্ষন দিচ্ছেন। পার্টি স্কুলে পাঠ্যসূচিতে পড়ানো হয় মার্কস-এঙ্গেলস-লেনিনের ধ্রুপদী সাহিত্য, মাও চিন্তাধারা, চীনের সাম্প্রতিক নেতৃবৃন্দের তত্ত্ব, শি জিনপিঙ-এর বক্তৃতার সারসংকলন, সমসাময়িক বিশ^ অর্থনীতি, সমসাময়িক বিশ^ বিজ্ঞান ও কৃৎকৌশল, সমসাময়িক বিশ^ আইন ব্যবস্থা, সমসাময়িক বিশ^ সামরিক বিজ্ঞান, চীনা জাতীয় প্রতিরক্ষা জ্ঞান, সমসাময়িক মতাদর্শিক ধারা।
আত্ম-শৃংখলার উপর গুরুত্বারোপ: পার্টি সদস্যদের জন্য প্রণীত হয়েছে ’চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শৃংখলা বিধি’। শৃংখলা ভঙ্গের ছয়টি ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হয়েছে- রাজনৈতিক শৃংখলা, সাংগঠনিক শৃংখলা, সততা শৃংখলা, গণ শৃংখলা, কর্ম শৃংখলা এবং ব্যক্তি জীবনের শৃংখলা। ২০১৬ সালে পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ে ডিসিপ্লিনারি কমিশনে ৭,৩৪,০০০ পার্টি সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ৩১,০০০ জনকে সতর্ক করে পার্টির নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেয়া হয়। ৩,১০,০০০ অভিযুক্তকে হাল্কা শাস্তি প্রদান করা হয়। ১,০৫,০০০ অভিযুক্তকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হয়। ১১,০০০ অভিযুক্ত পার্টি সদস্যদের অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে তাদের মামলা বিচারিক আদালতে প্রেরণ করা হয়।
পার্টি স্পষ্ট করে বলেছে পার্টি শৃংখলা ্এবং রাষ্ট্রীয় আইন দুটো ভিন্ন বিষয়। দুটোকে এক করা যাবে না। পার্টি সদস্যদের জন্য পার্টি শৃংখলা রাষ্ট্রীয় আইনের চেয়ে কঠোরতর। 
দূর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের ঘোষণা: পার্টি আর্থিকসহ যে কোন দূর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সংগ্রাম ঘোষণা দিয়ে বলেছে- ’জিরো টলারেন্স, জিরো ব্যারিয়ারস্্, জিরো লুফলস্্’। অর্থাৎ দূর্নীতির বিরুদ্ধে নিরাপোষ সংগ্রাম জারি থাকেবে। ’বাঘ এবং মাছি’ কাউকেই নিষ্কৃতি দেয়া হবে না। অর্থাৎ পার্টির বড় নেতা এবং তৃণমূল গ্রাম কমিটির নেতা যেই দূর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হবে তাকেই চিহ্নিত করা হবে এবং শাস্তির সম্মুখিন করা হবে। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় শৃংখলা পরিদর্শন কমিশন ২,৬০০ অভিযোগ অনুসন্ধান করে ৭৮০ টি মামলা নথিবদ্ধ করে এবং ৭৩০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করে।
একটি কর্মশালায় একজন আলোচক একটা গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রসঙ্গে বলেছিলেন- ’বিপদ যদি আসে তাহলে পার্টির অভ্যন্তর থেকেই তার শুরু হবে।’ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃবৃন্দ এটা অনুধাবন করেছেন। তাদের ভাষায় জনগণ কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত (অ্যাবানডেন্ট) না হতে হলে এবং দুই শতবার্ষিকী লক্ষ্যমাত্রার চাইনিজ ড্রীম বাস্তবায়ন করতে হলে পার্টি বিনির্মাণকে প্রধান গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ পার্টি হচ্ছে স্বপ্ন বাস্তবায়নের চালিকা শক্তি। সাধারণ সম্পাদাক শি জিনপিঙ তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে পার্টি বিনির্মাণ প্রসঙ্গে বলেছেন-’কঠিন মানদন্ডে পার্টি পরিচালনা করতে হবে’। সে কারণে বর্তমান চীনে মার্কস, এঙ্গেলস, মাও সেতুং চিন্তাধারা কথা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। কার্ল মার্কসের জন্মের দ্বিশতবার্ষিকী এবং প্রকাশনার সার্ধ শতবার্ষিকীতে পার্টি কমরেডদের ক্যাপিটাল গ্রন্থ পুনঃপাঠে উৎসাহিত করছে সিপিসি ।





লেখকঃ আব্দুল্লাহ আল কাফী রতন

Monday, October 23, 2017

মার্কসবাদে নিশ্চল চূড়ান্ত সত্যের স্থান নেই


অনেক পাঠক আগ্রহ প্রকাশ করায় রাজনৈতিক ও দার্শনিক তত্ত্ব নিয়ে আবার দু’চার কথা লেখার জন্য আজ কলম ধরেছি। পত্রিকার কলামের ছোট পরিধির মধ্যে এসব গুরুতর কথা ব্যাখ্যা করে লেখা সম্ভব নয়। একথা জেনেও মার্কসবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে সে বিষয়ে কিছু কথা লিখছি এ আশায় যে, এসব কথা হয়তো কারো কারো মাঝে তত্ত্বচর্চায় আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
মার্কসবাদী দর্শন চিন্তার একটি প্রধান প্রতিপাদ্য হচ্ছে বহির্জগতের বাস্তব অস্তিত্বের স্বীকৃতি। এই বহির্জগত্ চেতনা নিরপেক্ষভাবে বাস্তবে বিরাজ করে। এই বহির্জগেকই দার্শনিক ভাষায় আখ্যায়িত করা হয় বস্তুজগত্ হিসাবে। প্রায় সব দর্শনশাস্ত্র মতে অস্তিত্বের সবকিছুই হয় চেতনাজগত্ অথবা বস্তুজগত্— এই দুইয়ের কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত। চেতনাজগতের বাইরের সব সত্তাকেই মার্কসবাদ বস্তুজগতের অঙ্গীভূত বলে বিবেচনা করে। অর্থাত্ বস্তুজগতের প্রাথমিক বৈশিষ্ট্য হলো তার চেতনা নিরপেক্ষ বাস্তব অস্তিত্ব।
দর্শনের প্রধান একটি প্রশ্ন হলো, চেতনাজগত্ ও বাস্তবজগতের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে। এ বিষয়ে মার্কসবাদের স্পষ্ট জবাবটি হলো— সবকিছুর মাঝে বস্তুজগত্ই আদি ও প্রধান। বস্তুজগতের বিবর্তনের ধারাতেই মানুষকে ও মানুষের বুদ্ধি-শক্তিকে ভিত্তি করে চেতনাজগতের উদ্ভব হয়েছে। কিন্তু মার্কসবাদ, এখানেই এ সম্পর্কে তার বক্তব্যের ইতি টানে না। শুধু এটুকু পর্যন্ত বললে কথাটা দাঁড়াতো এরকম যে, বস্তুজগত্ই চেতনাজগতের নিয়ন্ত্রক এবং বস্তুজগতের ওপর চেতনাজগতের কোনো স্বাধীন প্রভাব নেই। মার্কসবাদ কিন্তু একথা বলে না। বরঞ্চ মার্কসবাদ একথাই বলে যে, বস্তুজগত্ থেকে চেতনাজগতের উত্পত্তি হলেও এবং তার দ্বারা তা নিয়ন্ত্রিত থাকলেও, চেতনাজগত্ও আবার স্বাধীনভাবে বস্তুজগতের উপর উল্টো ক্রিয়া করে। যান্ত্রিক বস্তুবাদী ধারণার সাথে এখানেই মার্কসবাদের মৌলিক পার্থক্য। বস্তুজগত্ ও চেতনাজগতের মধ্যে ‘কোনিট প্রধান’ সে বিষয়ে মার্কসবাদের প্রতিপাদ্যটি বুঝতে পারাটি তুলনামূলকভাবে অনেক সহজ এবং সবাই সেটাকেই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু এই দুই জগতের পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্কের জটিল ও দ্বন্দ্বাত্মক dialectical প্রক্রিয়া সম্পর্কে মার্কসবাদের প্রতিপাদ্যটি অনেক সময়ই নজর এড়িয়ে যায়। বিষয়টি যথার্থভাবে অনুধাবনের জন্য অনেকটা মাথা খাটানোরও প্রয়োজন হয়। অনেক সময় মার্কসবাদের স্বরূপ উপলব্ধির ক্ষেত্রে নানা বিকৃতির ভিত্তি রচিত হয় এর ফলে।
আরেকটি ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয় বস্তুজগত্ শব্দের ব্যবহারকে ঘিরে। মার্কসবাদ বস্তুজগত্ শব্দটিকে দার্শনিক অর্থে ব্যবহার করে থাকে। বস্তুজগত্ হলো চেতনাজগতের বাইরে অস্তিত্বমান সবকিছু। অর্থাত্ সমাজ জীবনের নানাবিধ উপাদান এবং একই সাথে বস্তু, ফিল্ড, তরঙ্গ ইত্যাদিসহ প্রাকৃতিক জগতের বিভিন্ন ধরনের উপাদান। এসব অনেক কিছু সম্পর্কে কিছুদিন আগেও হয়তো আমাদের কোনো জ্ঞান ছিল না এবং বস্তুজগতে এমন অনেক কিছুরই হয়তো অস্তিত্ব আছে, যা সম্পর্কে আমাদের এখনো কোনো জ্ঞান নেই। কিন্তু আমরা সে সম্পর্কে জ্ঞাত হই বা না হই, বস্তুজগতের মধ্যেই তার অস্তিত্ব আছে। সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান আছে কি নেই অথবা তা কতটা আছে তার ওপর সামগ্রিকভাবে বস্তুজগতের অথবা তার কোনো উপাদানের অস্তিত্ব নির্ভরশীল নয়।
আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, আধুনিক কোয়ান্টাম মেকানিক্সের তত্ত্ব প্রভৃতি প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের নবতর আবিষ্কারগুলো বস্তুজগত্ (দার্শনিক অর্থে) সম্পর্কে পূর্বের অনেক ধারণাকে বদলে দিয়েছে। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে গুণগত নতুন মাত্রিকতা ও উপাদান যুক্ত করেছে। মহাজাগতিক (cosmic) এবং পারমাণবিক (subatomic) পরিমণ্ডল সম্পর্কে মানুষের জ্ঞানভাণ্ডার দ্রুত সমৃদ্ধ হয়ে ওঠার সাথে সাথে এক্ষেত্রে বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলো দার্শনিক ক্ষেত্রে অনেক নতুন জিজ্ঞাসা ও ধারণার জন্ম দিয়েছে। এর ফলে নিঃসন্দেহে পুরনো অনেক দর্শনসংশ্লিষ্ট ধারণাকে নতুন করে বিবেচনা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এই প্রসঙ্গটি পৃথকভাবে বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। কিন্তু, এ বস্তুজগেক (দার্শনিক অর্থে) আরো ভালো করে জানার প্রক্রিয়াতেই এ সবকিছু ঘটছে। এসব নব আবিষ্কার ও তার ফলে দার্শনিক ক্ষেত্রে উত্থাপিত নবতর জিজ্ঞাসা ও ধারণাগুলো বস্তুজগতের বস্তুনিষ্ঠ অস্তিত্ব, চেতনাজগত্ ও বস্তুজগতের মধ্যে বস্তুজগতের মৌলিকত্ব, চেতনাজগতের স্বকীয় সক্রিয়তা এবং এই দু’য়ের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কের বিষয়ে মার্কসবাদের প্রাথমিক প্রতিপাদ্যগুলোকে নাকচ করে না। বরঞ্চ এসব বিষয়ে মার্কসবাদের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গির জায়গাটি আরো স্পষ্ট করার মাধ্যমে তা নবায়িত করে তোলে মাত্র। বিজ্ঞানের আধুনিকতম আবিষ্কারগুলো মার্কসবাদকে ভুল প্রমাণ করেছে, এবং এর ফলে মার্কসবাদ প্রাসঙ্গিকতা হারিয়েছে, একথা বলে যারা মার্কসবাদ পরিত্যাগের যুক্তি রচনা করতে চান— তাদের সে বক্তব্য সম্পূর্ণই অমূলক।
মার্কসবাদী মতাদর্শের আরেকটি প্রধান ভিত্তিমূলক প্রতিপাদ্য হলো, বস্তুজগতের ক্ষেত্রেই হোক বা চেতনাজগতের ক্ষেত্রেই হোক সব সত্তার অস্তিত্বই গতিময়। সবকিছুই অনন্ত গতিময়তার মধ্যেই অস্তিত্বমান এবং গতি ছাড়া কোনো সত্তারই অস্তিত্ব নেই। একইসাথে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সব সত্তাই পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্কের দ্বারা একটি একক সমগ্র হিসেবে অস্তিত্বমান। কোনো কিছুই অন্য যে কোনো কিছু থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন নয়, এবং সবকিছুই একে অপরের সাথে অনন্তভাবে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া করছে। সবকিছুই অনন্ত প্রবহমান ধারায় স্থানান্তরিত হচ্ছে, রূপান্তরিত হচ্ছে এবং কিছুই এক জায়গায় এক অবস্থায় স্থির থাকছে না।
মার্কসবাদের সার্বজনীন আন্তঃসম্পর্ক ও গতিময়তার সূত্র সব সত্তার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তা বস্তুজগতের ক্ষেত্রে হোক অথবা চেতনাজগতের ক্ষেত্রে হোক। এই দুই ক্ষেত্রের মধ্যেও আবার পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্ক বিদ্যমান। সামাজিক সত্তার ক্ষেত্রে বস্তু ও চেতনার আন্তঃসম্পর্ক যেমন রয়েছে, প্রাকৃতিক জগতের ক্ষেত্রেও তা আছে। আধুনিক কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও আপেক্ষিকতার তত্ত্ব, বস্তু ও চেতনার এই আন্তঃসম্পর্কের জটিল বিষয়টিকেই স্পষ্ট করেছে। মার্কসবাদের দর্শন চিন্তার প্রাসঙ্গিকতা এক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। এই সূত্র থেকে একই সাথে একথাই প্রত্যায়িত হয় যে, বস্তুজগতের মতো চেতনাজগত্ও অনন্ত গতিময়তার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এটাই যদি মার্কসবাদের অন্যতম মর্মকথা হয় তাহলে কি যুক্তিতে অভিযোগ উঠতে পারে যে, মার্কসবাদ চিন্তাজগতে ও তত্ত্বচর্চায় স্থবিরতার ধারক, মুক্ত চিন্তার বৈরী? বরঞ্চ মার্কসবাদের মর্মকথা এটাই যে, ‘কোনো কিছুই’ - এমনকি চিন্তা, তত্ত্ব, চেতনা এসব কোনো কিছুই স্থির নয়। সবকিছুই চির বিকাশমান। এ-কারণেই একটি অনুসরণীয় মতাদর্শ হিসাবে মার্কসবাদ চিন্তা, মনন, জ্ঞান, তত্ত্বচর্চা এসবকে এক চিরবিকাশমান প্রবাহ হিসাবে জীবন্ত করে তোলে। চেতনাজগতের এসব উপাদানের বিকাশে কোনো শেষ কথা নেই এবং তত্ত্বের ক্ষেত্রেও তা নেই—এটিই মার্কসবাদের কথা। মার্কসবাদ অনুসরণের অর্থ হলো এই উপলব্ধিকে ভিত্তি করে তত্ত্বচর্চায় অগ্রসর হওয়া। মার্কসবাদী হওয়ার বিষয়ের সাথে তাহলে ‘ডাগমা’ আশ্রয়ী হয়ে পড়ার অভিযোগ কোনোভাবেই উত্থাপিত হতে পারে না। অথচ এরূপ অভিযোগ তোলা হয়ে থাকে। যারা এধরনের প্রশ্ন তোলেন তারা আসলে মার্কসবাদের জ্ঞান তত্ত্বের মর্মকথাকেই বুঝে উঠতে পারেননি।
মার্কসবাদের জ্ঞানতত্ত্বের আরেকটি গোড়ার কথা হলো বিশ্বজগত্ জ্ঞেয়। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সত্তাসমূহ শুধু অস্তিত্বমানই নয়, চেতনায় সে সম্পর্কে সত্যিকার জ্ঞান অর্জনও সম্ভব। চেতনা এই জ্ঞানকে প্রকৃতভাবেই ধারণ করতে সক্ষম। জ্ঞান সত্য কিনা তার প্রমাণ কি? এখানেই মার্কসবাদের আরেকটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য। মার্কসবাদ অনুসারে, জ্ঞান সত্য কি না তা যাচাইয়ের কষ্টিপাথর হলো ‘প্রয়োগ’। তত্ত্ব ও প্রয়োগের ধারাতেই নতুন জ্ঞানার্জন সম্ভব। এবং অর্জিত জ্ঞানের সাধারণীকরণের ভিত্তিতে রচিত ‘তত্ত্বে’র যথার্থতা যাচাই একমাত্র প্রয়োগের মাধ্যমেই সম্ভব। প্রয়োগের মাধ্যমে তত্ত্ব-যাচাইয়ের ধারায় নতুন প্রয়োগ নতুন জ্ঞানের উপাদান বয়ে নিয়ে আসে। আগের জ্ঞানের সাথে নতুন জ্ঞানের সমাবেশ ঘটে। জ্ঞান আরো একধাপ এগিয়ে যায়। এভাবেই ক্রামগত জ্ঞানের বিস্তৃতি ও বিকাশ ঘটতে থাকে। সেই সাথে তত্ত্বেরও।
মার্কসবাদ যেভাবে প্রয়োগ ও তত্ত্বের আন্তঃসম্পর্কটা বিবেচনা করে তা কিন্তু সরল ‘প্রয়োগবাদ’ নয়। প্রয়োগবাদী মতাদর্শের কথা হলো, প্রতিটি বিষয়কে নির্দিষ্ট মুহূর্তের প্রয়োগের মধ্যদিয়েই সত্য বলে দেখতে হবে। প্রয়োগবাদের তত্ত্বে জ্ঞানের সাধারণীকরণের কোনো সুযোগ নেই এবং সে কারণে সাধারণ তত্ত্বচিন্তারও কোনো সুযোগ নেই। প্রয়োগবাদের এই সরলীকৃত দৃষ্টিভঙ্গি মার্কসবাদ গ্রহণ ও অনুসরণ করে না। এক্ষেত্রে মার্কসবাদের প্রতিপাদ্য হলো এই যে, নির্দিষ্ট জ্ঞান এবং জ্ঞানের সাধারণীকরণের ভিত্তিতে রচিত তত্ত্ব—এই দু’য়ের মধ্যে একটি ডায়ালেকটিক আন্তঃসম্পর্ক সবসময় বিদ্যমান। এটাই যুক্তিবিদ্যার ‘বিশেষ’ ও ‘সাধারণের’ মধ্যে, তথা ইনডাকটিভ ও ডিডাকটিভ পদ্ধতির মধ্যে ডায়ালেকটিক্যাল সম্পর্কের বিষয়ে মার্কসবাদের সূত্র। নির্দিষ্ট জ্ঞান সাধারণীকৃত তত্ত্বজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে, আবার তত্ত্বের মাধ্যমে সাধারণীকৃত তত্ত্বজ্ঞান নির্দিষ্ট জ্ঞানকে আরো গভীরতর করে তোলে। এটা দ্বিমুখী পারস্পরিক আন্তঃসম্পর্কের ব্যাপার। লজিকের ইনডাকটিভ ও ডিডাকটিভ পদ্ধতির উভয়মুখীন আন্তঃসম্পর্কের বিষয়। সুতরাং প্রয়োগবাদের মতাদর্শে তত্ত্বচিন্তা ও জ্ঞানের সাধারণীকরণের বিষয়ে যে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বিরাজ করে, মার্কসবাদ তাকে সঠিক বলে মনে করে না। তত্ত্বচর্চা সত্যকে দূরে ঠেলে দেয় না, বরঞ্চ তাকে ক্রমাগতই আরো নিকটবর্তী করতে সহায়তা করে। বস্তুতঃ, চেতনা ও জ্ঞান মানেই আসলে কোনো না কোনো মাত্রায় তত্ত্বায়ন। ‘তত্ত্ব থেকে মুক্তির’ ধারণা তাই অলীক কল্পনা ব্যতীত অন্য কিছু নয়।
মার্কসবাদী চিন্তানুসারে সত্যানুসন্ধানের ক্ষেত্রে তত্ত্বচর্চার বিশেষ গুরুত্ব ও প্রয়োজন আরেকটি কারণে রয়েছে। সত্তার সার্বজনীন আন্তঃসম্পর্ক যেহেতু একটি বাস্তব সত্য, তাই কোনো বিশেষ বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান তখনই সমৃদ্ধতর হতে পারে যখন, অপর বিষয় সম্পর্কে এবং সম্ভাব্য যত বেশি বিষয় সম্পর্কে, জ্ঞান তার সাথে যুক্ত করে বিবেচনা করা যায়। মার্কসবাদী মতাদর্শের এই মৌলিক কথাগুলো বুঝতে চেষ্টা না করে যেভাবে কিছু কিছু ব্যক্তি তত্ত্বচর্চার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে থাকেন এবং যেভাবে ‘তত্ত্বায়নের শৃঙ্খল থেকে চিন্তার মুক্তির’ সপক্ষে ক্যানভাস করে থাকেন, তা তাদের চিন্তা-শক্তির দীনতাকেই প্রকাশ করে মাত্র।
বিশ্বজগত্ জ্ঞেয়। কিন্তু জ্ঞেয় হলেও সে সম্পর্কে লব্ধ জ্ঞান কি কখনোই পরিপূর্ণ হতে পারে? এ সম্পর্কে মার্কসবাদের কথা হলো, - না জ্ঞান কখনোই পূর্ণ হয়ে ‘পরম সত্য’ হয়ে উঠতে পারে না। তার কারণ, প্রথমত বিশ্বের সব সত্তা সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তে সব জ্ঞান একীভূত করা সম্ভব নয়। কেননা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড হলো অনন্ত, তা হলো অনন্ত সত্তার সমাহার। দ্বিতীয়ত সব সত্তাই এবং সামগ্রিকভাবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড অনন্ত গতির মধ্যে রয়েছে। তাই সমগ্রের ক্ষেত্রে তো বটেই, এমনকি একটি নির্দিষ্ট সত্তা সম্পর্কে জ্ঞানের সত্যতা এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকতে পারে না। তৃতীয়ত সব সত্তা যেহেতু বিশ্বজনীন আন্তঃসম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত, তাই কোনো একটি অংশ সম্পর্কে জ্ঞান-সমগ্র সম্পর্কে জ্ঞান ব্যতীত পূর্ণ হতে পারে না। এসব থেকে মূল কথাটি যা দাঁড়ায় তাহলো এই যে, বিশ্বজগত্ জ্ঞেয় হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞান কখনোই চূড়ান্তভাবে পরিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে না। ‘পরম সত্য’ বাস্তব কারণেই অবাস্তব।
তাহলে কি মার্কসবাদ একথাই বলতে চায় যে, কোনো জ্ঞানই সত্য নয়? না, মার্কসবাদের কথা মোটেও তা নয়। জ্ঞান আংশিক হলেও তা সত্য এই অর্থে যে, তার মধ্যে সত্যের উপাদান রয়েছে। প্রয়োগের মাধ্যমেই সেই জ্ঞানের সত্যাসত্য যাচাই করা যায়। জ্ঞানের অনন্ত ক্রমবিকাশমান বিস্তার সেই সত্যের উপাদানকেই ক্রমাগত সমৃদ্ধতর করে চলেছে। মার্কসবাদের বিবেচনায় জ্ঞান অন্বেষণ তাই একটি অন্তহীন বিকাশমান প্রক্রিয়া। এই অন্তহীন যাত্রাপথে নির্দিষ্ট মুহূর্তের নির্দিষ্ট বিষয়ক জ্ঞানই হলো সেই জ্ঞান অন্বেষণের অন্তহীন প্রক্রিয়ার অমূল্য সম্পদ। আংশিক জ্ঞান বা আপেক্ষিক জ্ঞান সে কারণেই মিথ্যা নয়, সেটিও সত্য। সে কারণে বলা যায়— জ্ঞান ও সত্যের অন্বেষায় মার্কসবাদ নিঃসন্দেহে একটি যথার্থ ও সঠিক পথনির্দেশ।
লেখক :মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম,  সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

Saturday, October 21, 2017

"বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আজ হুমকিতে"

সম্প্রতি দেশে এক গুরুতর ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সুপ্রিমকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির মাধ্যমে তার প্রকাশ ঘটেছে। এসব ঘটনাবলি নিয়ে সত্য-অসত্য-অর্ধসত্য বিভিন্ন কথাবার্তা ও জল্পনা-কল্পনা মানুষের মুখে মুখে ছড়াচ্ছে। জন্ম নিয়েছে নানা প্রশ্ন। অধিকাংশ মানুষ এসব ঘটনায় হতভম্ব ও বিচলিত। ঘটনাবলির কেন্দ্রে রয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। একটি মহলের মতে, তিনি ‘নায়ক’, আরেকটি মহলের মতে, তিনি ‘খলনায়ক’। ঘটনাবলি প্রধান বিচারপতিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হলেও বিষয়টি নিছক কোনো ব্যক্তিগত বিষয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বিচার বিভাগের মর্যাদা, সম্মান ও বিশেষত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’র অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসব ঘটনার দ্বারা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
বিচার বিভাগকে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করা ও তার পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবিতে পাকিস্তান আমলে দেশবাসীকে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অন্যান্য অনেক মৌলিক অর্জনের পাশাপাশি এই দাবিটির সাংবিধানিক স্বীকৃতিও অর্জিত হয়েছিল। কিন্তু তার বাস্তবায়ন শুরু থেকেই বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নানাবিধ উপায়ে বিচার বিভাগের ওপর সরকার তথা সামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এরশাদী সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামকালে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দাবিটি অন্যতম গণদাবি হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল। ঐতিহাসিক ‘তিন জোটের রূপরেখায়’ ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করার বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু এরশাদী স্বৈরশাসনের পর, নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের অধ্যায় শুরু হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে নিরঙ্কুশ করার পথে দেশ অগ্রসর হতে পারেনি। দেশের প্রধান দুটি বুর্জোয়া দল তথা আওয়ামী লীগ ও বিএনপিই এ জন্য প্রধানত দায়ী। এটি হলো বুর্জোয়া রাজনীতি ও বুর্জোয়া দলগুলোর চরম ব্যর্থতার জ্বলন্ত নিদর্শন। একই সঙ্গে তা হলো বুর্জোয়া রাষ্ট্রব্যবস্থার দেউলিয়াপনার স্পষ্ট প্রকাশ।
নব্বইয়ের পর আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ‘তিন জোটের রূপরেখা’র প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারগুলোর কথা প্রায় ভুলে গিয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে ‘গদি দখলের প্রতিযোগিতা’র নোংরা খেলায় লিপ্ত হয়ে পড়েছিল। দেশের রাজনীতির প্রধান উপাদান হয়ে উঠেছিল লুটপাট ও তার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে দুপক্ষের প্রতিযোগিতা। পরিণতিতে লুটেরাদের হাত করা, সন্ত্রাসী-ক্যাডার ও হোন্ডা-গু-ার অপশক্তিকে দলে ভেড়ানো, নিজ দলকে অন্যের চেয়ে বেশি ‘ইসলাম পছন্দ’ হিসেবে প্রমাণ করা ইত্যাদি ‘অপরাজনীতি’র নানা বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পাল্লাপাল্লির প্রতিযোগিতা রাজনীতির অঙ্গনকে রুগ্নতার অন্ধকারে গ্রাস করে ফেলেছে। হানাহানি, সন্ত্রাস, লুটপাট, নৈরাজ্যে দেশ নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। নিছক ‘গদি দখল’কেন্দ্রিক এই ধারায় ‘রাজনীতি’র অবধারিত পরিণতিতে বিচার বিভাগের ‘স্বাধীনতার’ বিষয়টি পরিত্যক্ত হয়ে, বিচার বিভাগের ওপর উল্লিখিত দুটি পক্ষের দলীয় প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
যে কোনো বুর্জোয়া ধারার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো পরিচালিত হয় পরস্পর সম্পর্কিত কিন্তু পরস্পর থেকে স্বাধীনভাবে কর্মরত, রাষ্ট্রের তিনটি মূল স্তম্ভ বা বিভাগকে ভিত্তি করে। এগুলো হলো নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। তারা পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও কেউ কারো অধীনস্থ নয়। তাদের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার মাধ্যমেই রাষ্ট্রে ‘জনগণের সার্বভৌমত্ব’ ও ‘রাষ্ট্রের মালিক জনগণ’ মর্মে সংবিধানের নির্দেশনা কার্যকর করা সম্ভব হয়ে থাকে। কিন্তু সর্বজন স্বীকৃত সেই নীতি ও ব্যবস্থা অনুসরণ করা হচ্ছে না। সামরিক সরকারগুলোর সময় নির্বাহী বিভাগকে যেভাবে অন্য দুটি বিভাগের ওপর খবরদারি ও নিয়ন্ত্রণের আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছিল, সে ধারা এখনো বহাল রাখা হয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালে বিএনপি সে পথই অনুসরণ করেছে। আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে সরকার তথা নির্বাহী কর্তৃত্বের প্রভাবে পরিচালনার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগও এ বিষয়ে বিএনপির পথেই হাঁটছে। ‘গদি দখল’কেন্দ্রিক বিবেচনাকে প্রাধান্য দেওয়ায় নির্বাহী বিভাগ তথা সরকারের হাতে রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্ব কেন্দ্রীভূত করার এই চেষ্টার বলি হতে হয়েছে বিচার তথা আদালতের স্বাধীন কর্তৃত্ব।
আমাদের দেশে এই রেওয়াজই এখন প্রায় স্থায়ী হয়ে গেছে যে, ক্ষমতাসীন দলের যিনি দলীয়প্রধান, তিনিই একই সঙ্গে সরকারপ্রধান ও সংসদের নেতা। দলীয়প্রধান হিসেবে নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে তার মতামতই চূড়ান্ত হওয়ায় কাদের নিয়ে সংসদ গঠিত হবে সেটি তার ইচ্ছার ওপরই নির্ভর করে। এবারের সংসদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোটগ্রহণ ছাড়াই, কেবল দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সুবাদেই ১৫৪ জন ব্যক্তি সংসদ সদস্য হয়েছেন। এই সংখ্যা সাধারণ আসনের মোট সংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি। এদিকে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সব সাংসদই ‘সংসদীয় দলের’ সিদ্ধান্ত অনুসারে ভোট দিতে বাধ্য। অন্যথায় তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। তা ছাড়া যেহেতু একই ব্যক্তি দলীয়প্রধান, সরকারপ্রধান ও সংসদ নেতা, সে কারণে আইন বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের ও দলীয় নেতৃত্বের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা স্বাভাবিকভাবেই ও অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠেছে। সেরূপ একটি ‘নিয়ন্ত্রিত’ সংসদের হাতে বিচারপতিদের অপসারণ করার ক্ষমতা অর্পিত হলে তা যে কার্যত বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্বে পরিণত হবে এ কথা বুঝতে পারাটি মোটেও কঠিন নয়। এ কথাও পরিষ্কার যে, তেমন হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিনষ্ট হবে।
কিন্তু বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতার’ চেয়ে ‘গদি দখলে রাখার’ বিবেচনা হলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে সরকারের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক ‘অভিযান’ পরিচালনার পেছনে এটিই হলো আসল কারণ। বলা বাহুল্য যে, বিএনপির শাসনামলে সে দলটিও একই চিন্তায় রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে। দুটি দলের শাসনামলেই এর ফলে বলি হয়েছে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা।
সংসদের প্রতিনিধিত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য যেসব সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ, যেসব নির্বাচনী সংস্কার সাধন ইত্যাদি কাজ একান্ত প্রয়োজন - সেসব না করেই আওয়ামী লীগ কিছুদিন আগে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের’ বদলে ‘সংসদের’ হাতে নিয়ে এসে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস করেছিল। আদালতে সেটি চ্যালেঞ্জ করা হলে হাইকোর্ট সেই সংশোধনীটি বাতিল করে রায় দিয়েছিল। সুপ্রিমকোর্ট তার বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দিয়ে সম্প্রতি চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন। এর পর পরই শুরু হয়ে যায় বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে সরকার ও সংসদের নোংরা বিষোদ্গার ও আক্রমণের সাম্প্রতিক নবপর্ব।
ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কে বিচার বিভাগের রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বিএনপি উল্লাস করেছিল। মিষ্টি খাওয়া-খাওয়ি করেছিল। এদিকে বিচার বিভাগের এই ‘স্বাধীন সিদ্ধান্ত’ সরকার ও সরকারি দলকে প্রচ-ভাবে ক্ষিপ্ত করে তুলেছিল। বিচার বিভাগের প্রতি উভয় দলের দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি যে ‘সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থ’ - তা আবার নগ্নভাবে প্রকাশ হয়ে পড়েছিল।
সুপ্রিমকোর্টের ৭ জন বিচারপতি সর্বসম্মতক্রমে এই রায় দিলেও সরকারপ্রধান বিচারপতিকে টার্গেট করে বিষোদ্গারের ঝড় তোলেন। রায়ে প্রধান বিচারপতির বিস্তৃত ‘পর্যবেক্ষণ’ থেকে সত্য-মিথ্যা উদ্ধৃতি ও মনগড়া অপব্যাখ্যা ইত্যাদি দ্বারা তারা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে বেপরোয়া আক্রমণ চালাতে শুরু করেন। অনেকে তার পদত্যাগ দাবি করেন। তাকে উদ্দেশ করে কেউ কেউ ঘোষণা দিয়ে বসেন, ‘তোমাকে পদও ছাড়তে হবে, দেশও ছাড়তে হবে।’ প্রধান বিচারপতিকে প্রচ- চাপে রাখার প্রয়াসে মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকার ও প্রশাসনের নানা শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে। প্রচার করা হয়, তিনি অসুস্থ ও ক্যানসারে আক্রান্ত। অথচ প্রধান বিচারপতি নিজমুখে জানান, তিনি সুস্থই আছেন। তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ নিয়ন্ত্রিত করা হয়। জনমনে সন্দেহ জাগে, সবকিছু করা হচ্ছে প্রধান বিচারপতিকে ‘পদছাড়া ও দেশছাড়া’ করার জন্য সরকারের ‘অভিযানের’ অংশ হিসেবে।
দেশের প্রধান বিচারপতি এখন ছুটিতে বিদেশ আছেন। নভেম্বরে তার দেশে ফিরে আসার কথা। জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত তার দায়িত্বের মেয়াদ বহাল আছে। কিন্তু আইনমন্ত্রী বলেছেন, ফিরে এলেও তার পক্ষে আদালতের বেঞ্চে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করা ‘সুদূরপরাহত’। এদিকে প্রধান বিচারপতি বিদেশে যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, নৈতিক স্খলন, অদক্ষতা ইত্যাদি ধরনের ১১টি অভিযোগ আছে বলে জানানো হয়েছে। এসবের সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে আমার জানা নেই। তা ছাড়া এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির পক্ষে সাফাই গাওয়ার বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য আমার নেই। তদুপরি বিষয়টি এখন তদন্তাধীন ও বিচারাধীন। আমি বিচলিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’ নিয়ে। এ বিষয়ে আমার অবস্থান দৃঢ় আছে ও থাকবে।
প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে আইনানুগ পথে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, এটিই কাম্য। অভিযোগের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করার পর তিনি চাইলে সে বিষয়ে অনুসন্ধান ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে পাঠাতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ মেয়াদকালজুড়ে তিনিই প্রধান বিচারপতি আছেন ও থাকবেন। তবে এতদসত্ত্বেও মানুষের অনেক জিজ্ঞাসা। তাদের মনে প্রশ্ন হলো, এসব অভিযোগ আগে কেন প্রকাশ করা হলো না? এসব অভিযোগের কথা আগেই যদি সরকারের জানা ছিল, তবে সে বিষয়ে আগেই কেন ব্যবস্থা নেওয়া হলো না? আর আইনের চোখে সবাই যদি সমানই হয়, তবে এসব অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন বিদেশে যেতে দেওয়া হলো? ইত্যাদি।
প্রচার করা হচ্ছে, একটি ‘জুডিশিয়াল ক্যু’ করে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। সেটি ‘প্রিয়েম্পট’ করা বা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করার জন্যই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ‘অভিযান’ চালানো হয়েছে। এসব কথার সত্যতা থাকতেও পারে, আবার নাও থাকতে পারে। কেউ আজ কারো কোনো কথা চট করে বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না। কিন্তু সত্য-মিথ্যা যাই হোক না কেন, এ কথা মনে রাখা প্রয়োজন যে, ‘অসৎ পথে কোনো সৎ উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত সাধন করা যায় না।’ যেমন কিনা ‘আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না’, তেমনি ‘ষড়যন্ত্রকে পাল্টা ষড়যন্ত্র দিয়ে নিঃশেষ করা যায় না।’
গত মঙ্গলবার একজন সিনিয়র মন্ত্রী প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কথা কম বলার পরামর্শ দিয়েছেন ও প্রধান বিচারপতির বর্তমান পরিণতি সম্পর্কে ইঙ্গিত করে তাকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘কথা কম বলুন।’ এ থেকে কি এ কথাই মন্ত্রী মহোদয় স্বীকার করে নিলেন না যে, প্রধান বিচারপতির অসুস্থতা, ছুটি, বিদেশ যাওয়া, ১১টি অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়া ইত্যাদি ঘটনাবলি ঘটেছে তার ‘বেশি কথা’ বলার জন্য, অন্য কোনো কারণে নয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ‘অবাধ্য’ হলে তার ক্ষেত্রেও একই পরিণতি ঘটবে। তার এ কথা দিয়ে তিনি কি ঘটনাবলির পেছনের ‘আসল কথাটি’ প্রকাশ করে দিলেন না?
প্রকৃত ঘটনা যাই হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত মূল আঘাত এসে পড়ছে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা’র ওপর। উদ্বেগের বড় উৎস হলো এখানেই। বিচার বিভাগের মর্যাদা ও স্বাধীনতা আঘাতপ্রাপ্ত হলে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ার বিপদের মুখে পতিত হয়। এর দ্বারা ‘গদির রাজনীতি’র পাটীগণিতে সাময়িক সুবিধা অর্জন সম্ভব হলেও তা পরবর্তী সময়ে ‘নিজের পায়ে কুড়াল মারার’ মতো ব্যাপার হয়ে উঠতে বাধ্য। এটিই ইতিহাসের শিক্ষা। কিন্তু ইতিহাসের এটিও শিক্ষা যেÑ ইতিহাস থেকে সবাই শিক্ষা নেয় না। ‘গাছের আগায় বসে ডালের পেছনটা কাটা’, দেশের জন্য তো বটেই, শাসক দলের জন্যও যে এক সময় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারেÑ সে কথা সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করব।

লেখকঃ মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম : সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)


 দৈনিক আমাদের সময়,২২ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ প্রকাশিত

গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র'র উদ্যোগে- গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত



গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র আয়োজিত গণতান্ত্রিক শ্রম আইন প্রসঙ্গে গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, শ্রম আইনের যেসব ধারা দেশের সংবিধান, সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা, আইএলও কনভেনশনের পরিপন্থী অবিলম্বে সেসব ধারা বাতিল করে শ্রম আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারসমূহের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন বাতিলের বিধান আছে। প্রচলিত শ্রম আইন বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেনে। তারা বলেন, আন্দোলন ছাড়া শ্রমিক স্বার্থের পক্ষে আইন অর্জিত হবে না।
পুরানা পল্টন মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভার শুরুতে লিখিত বক্তব্য দেন গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার।
সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, বর্ষীয়ান শ্রমিকনেতা মনজুরুল আহসান খান, শ্রম আইন সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত ত্রিপক্ষীয় কমিটির সদস্য শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতন, শ্রম আইন বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট নেসার আহমেদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি শ্রমিকনেতা মাহাবুব আলম, গার্মেন্ট শ্রমিক টিইউসির কার্যকরী সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, শ্রমিকনেতা আসলাম খান, গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আহসনা হাবিব বুলবুল, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা রাজু আহমেদ প্রমুখ।
মনজুরুল আহসান খান বলেন, অতীতে শ্রম আইনে শ্রমিক স্বার্থের পক্ষে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তার জন্য এদেশের শ্রমিকশ্রেণিকে বহু ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এখন এসে একের পর এক শ্রমিক আন্দোলনের সেসব অর্জন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। একটি গণতান্ত্রিক শ্রম আইন আদায় করতে হলে শ্রমিকদের জীবনপন লড়াই করতে হবে। আমাদের অভিজ্ঞতা হলো মজুরির প্রশ্নে শ্রমিকরা যতটা সচেতন আইনের প্রশ্নে শ্রমিকদের সচেতনতার অভাব ততটাই। শ্রমিকদের সচেতন করে আন্দোলন না গড়ে উঠলে অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। একারণেই বিপ্লবী ধারার ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, নিবন্ধন ছাড়া ট্রেড ইউনিয়ন অধিকারের আওয়াজ তুলতে হবে।
শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের জন্য ত্রিপক্ষীয় কমিটি গঠিত হলেও সরকার শ্রমিক পক্ষকে না জানিয়েই সংশোধনীর প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে। সরকারের এই গর্হিত কাজ থেকে এটাই অনুমেয় হয় শ্রম আইনের আসন্ন সংশোধন শ্রমিক স্বার্থবিরোধী এবং প্রতিক্রিয়াশীল হবে।
তিনি আরো বলেন, আইএলওর চাপে সরকার শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও নানান কৌশলে শ্রমিকদের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি করার পাঁয়তারা চলছে।
অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রচলিত শ্রম আইনে শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়া এবং যৌথ দরকষাকষির অধিকার সঙ্কুচিত এবং কাঠামোগতভাবে মালিক ও আমলাদের সন্তুষ্টির দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার হরণ করার হাতিয়ার হিসেবে শ্রম আইনের বিভিন্ন ধারা ব্যবহার হচ্ছে। একইভাবে ইপিজেড এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার পৃথক আইনে রোহিত করা হয়েছে।
তারা বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান সংগঠন করার ও সমবেত হওয়ার অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। জবরদস্তিমূলক সব ধরনের শ্রমকে নিষিদ্ধ করেছে। কর্মের অধিকার, কর্মের গুণ ও পরিমাণ বিচারে যুক্তিসঙ্গত মজুরির অধিকার, বিশ্রাম, বিনোদন, অবকাশের অধিকার এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকার ইত্যাদিকে সংবিধানে জনগণের মৌলিক প্রয়োজন বলা হয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে এসব নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

Friday, October 20, 2017

রোহিঙ্গাদের হত্যা বন্ধে জাতিসংঘে স্মারকলিপি দিবে সিপিবি, বাসদ ও বামমোর্চা

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগণের ওপর পরিচালিত গণহত্যা-বর্বরতা বন্ধের দাবিতে লক্ষাধিক গণস্বাক্ষরসহ আগামী রবিবার (২২ অক্টোবর) জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর স্মারকলিপি পেশ করবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এবং গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা।
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের সম্মান ও নাগরিক অধিকারসহ তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনই এ সংকটের একমাত্র সমাধান বলে উল্লেখ করেন সিপিবি-বাসদ-বাম মোর্চার নেতৃবৃন্দ।
আজ
২০ অক্টোবর, ২০১৭ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মুক্তিভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম। আরও বক্তব্য রাখেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক সাইফুল হক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদ-এর বজলুর রশিদ, সিপিবি’র কেন্দ্রীয় নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, লুনা নূর প্রমুখ।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর আক্রমণকে ও বর্বরতাকে ‘জাতিগত নিধন’ হিসাবে অভিহিত করে সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, ‘সহিংসতা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া, হত্যা, ধর্ষনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের এমন কোন কর্ম নেই যা রোহিঙ্গাদের উপর চালানো হয়নি’।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া-চীনের ভেটো ক্ষমতার কারণে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর গণহত্যা ও বর্বরতা বন্ধে মিয়ানমারকে বাধ্য করা সম্ভব নাও হতে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সেকারণে বিষয়টিকে সাধারণ পরিষদে উত্থাপন করে আলোচনার পর সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রের সমর্থন অর্জনের জন্য সরকারকে (বাংলাদেশ) উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে’।
তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের উপর বর্বরতা-গণহত্যা বন্ধ করতে মিয়ানমারকে বাধ্য করা, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কফি আনান রিপোর্ট বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকারের স্বীকৃতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার দাবিতে লক্ষাধিক গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব দাবিতে গণস্বাক্ষরসহ আগামি ২২ অক্টোবর রোববার সকাল ১১টায় বাংলাদেশে জাতিসংঘ কার্যালয়ে সংস্থার মহাসচিব বরাবর স্মারকলিপি পেশ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়টি এখন আর বাংলাদেশ-মিয়ানমারের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়। এটি একটি বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সেকারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মিশন পাঠিয়ে ওইসব দেশের সরকারসমূহকে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা ও বর্বরতা বন্ধে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে উদ্যোগ নিতে হবে ।


হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির নামে জুলুম বন্ধ ও পূর্বের হোল্ডিং ট্যাক্স বহাল রাখার দাবি


- বিক্ষোভ সমাবেশে যুব ইউনিয়ন
সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক এ্যাপার্টমেন্ট ও বসতবাড়ীর অস্বাভাবিক ও মাত্রাতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধির নামে জুলুম বন্ধ ও পূর্বের হোল্ডিং ট্যাক্স বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন। 
আজ ২০ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ। বক্তব্য রাখেন, যুবনেতা গোলাম রাব্বী, শরিফুল আনোয়ার সজ্জন, আনোয়ার হোসেন, এমআর খান জিতু, মাহবুব আলম পিয়াস, ছাত্রনেতা দীপক শীল প্রমুখ। 
সমাবেশে যুবনেতা সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, আমরা নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। ঢাকা শহর এখনও বসবাসযোগ্য করা যায়নি। অথচ ট্যাক্স বেড়েই চলছে। তিনি আরও বলেন, এমনিতে মূল্যবৃদ্ধির অত্যাচারে মানুষের নাভিশ্বাস। এরপর অস্বাভাবিক হোল্ডিং ট্যাক্স বৃদ্ধি হলে বাড়ীঘর ছেড়ে সাধারণ মানুষকে চলে যেতে হবে। 
সমাবেশে বক্তারা বলেন, আমরা আশা করি সরকার সহৃদয়ের সাথে নগরবাসীর কথা চিন্তা করে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো বন্ধ করবে। আর জনদূর্ভোগ বাড়াবে না। বক্তারা আরো বলেন, সিটি কর্পোরেশন দাবি না মানলে আগামীতে ঘেরাওসহ নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। 
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ চাল মরিচসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম যে আকাশচুম্বী তা কমিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি জানান। 
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে গিয়ে শেষ হয়।

সাভার রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটি



সাভার রানা প্লাজার নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির অর্ন্তভূক্ত প্রগতিশীল শ্রমিক সংগঠনসমূহের উদ্যোগে আজ ২০ অক্টোবর সকাল ১১ টায় প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে সাভার রানা প্লাজার সামনে রানা প্লাজা হত্যাকান্ডে নিহত শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রচন্ড প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সাভার রানা প্লাজার সামনে আয়োজিত শ্রদ্ধান্জলি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অক্টোবর বিপ্লব শতবর্ষ উদযাপন জাতীয় কমিটির শ্রমিক সংগঠনসমূহ এর আহবায়ক ও বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন এর সভাপতি শ্রমিক নেতা শাহ আতাউল ইসলাম, গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরাম এর সভাপতি  মোশরেফা মিশু, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট এর দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন, গার্মেট শ্রমিক সংহতির  সভা প্রধান  তসলিমা আক্তার লিমা, জাতীয় গণতান্ত্রিক শ্রমিক ফেডারেশন এর আহবায়ক শামীম ইমাম, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন এর কেন্দ্রীয় নেতা রাজু আহম্মেদ, গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাংগঠিক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পান্চল কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাস, গার্মেন্ট শ্রমিক গণ সংহতির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম শামা, গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরাম সাভার-ধামরাই আঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক শাহ্‌ আলমস । গণ সংগীত পরিবেশনা করেন বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী সাভার শাখা । উল্লেখ্য আজ ২০ অক্টোবর আশুলিয়া ফ্যান্টাসি কিংডমের সামনে শ্রমিক সমাবেশ হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মূহুর্তে সম্পূর্ন ফ্যাসিস্ট কায়দায় পুলিশ সমাবেশের অনুমতি প্রদান করে নাই। সমাবেশ থেকে সরকারের এই অগনতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারি আচরনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়।